সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

প্রসঙ্গঃ নিরাপদ সড়ক

দুর্ঘটনা রোধ এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনার চিন্তা থেকে সরকার সড়ক আইন প্রণয়ন করেছেন। গত কয়েক দশক ধরে ক্রমবর্ধমান যানজট, মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাসহ নানাবিধ ভোগান্তির বিরুদ্ধে এই আইন প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগ গ্রহণ সময়োচিত এবং জনদাবির প্রতিফলন।গত বছর সড়ক দুর্ঘটনা এবং অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে সংগঠিত ছাত্র-কিশোর বিদ্রোহ বাংলাদেশের এক ঐতিহাসিক ঘটনা যা সড়ক আইন প্রণয়নে সরকারের উপর বাড়তি চাপ ও দায়িত্ব আরোপ করে, একথা বলাই যায়। আইন অমান্য করা অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক, লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি, ধারণ ক্ষমতার অধিক যাত্রীবহন, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে নিরীহ মানুষকে চাপা দেয়া এটা যেন বাংলাদেশের মানুষের ভবিতব্য হয়ে উঠেছে।এতকাল পর যখন সরকার কড়াকড়িভাবে সড়ক আইন প্রয়োগ করতে যাচ্ছে, তখন শ্রমিকনেতার বেশধারী দুর্বৃত্ত মাফিয়া এবং অবৈধ সিন্ডিকেট একজোট হয়েছে পরিবহন খাতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে সরকারকে তার প্রতিশ্রুত কাজে বাধাদান করতে যার দুর্ভোগ পোহাবে নিরীহ ও অসহায় জনগণ। এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় বাস এবং ট্রাক ধর্মঘট ডেকে, চালকদের উস্কে পথে নামিয়ে দিয়ে জনগণকে জিম্মি করার চেষ্টা করছে অবৈধ অর্থলোভী, রক্তখেকো সিন্ডিকেট।নিরাপদ সড়কের দাবিতে বহু বছর ধরে আন্দোলন করে যাওয়া দেশের জননন্দিত চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের ছবিতে জুতার মালা পরিয়ে অপমান করা, তাঁর ছবিতে অগ্নিসংযোগ করার মতো স্পর্ধা দেখিয়েছে এই দুর্বৃত্তরা। সড়ক আইনে যদি এমন কিছু থাকে যা শ্রমিক স্বার্থের পরিপন্থী, সেটা সরকারের সাথে আলোচনার মাধ্যমেই সারতে হবে। কিন্তু যানবাহন বন্ধ করে, সরকার এবং জনগণকে বেকায়দায় ফেলে জিম্মি করে মানুষ মারার লাইসেন্স হাতে তুলে নেয়ার দানবীয় দাবি কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সরকারকে এব্যাপারে নির্দ্বিধায়, সাহসের সাথে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।সরকারের উচিত হবে সড়ক আইনের সমস্ত বিষয়গুলো পরিবহন মালিক, চালক এবং জনগণের সামনে প্রাঞ্জলভাবে তুলে ধরা যাতে সবাই এর প্রয়োজনীয়তা এবং কার্যকারিতা বুঝতে পারে। এক্ষেত্রে মিডিয়া দারুণ সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। এই আইন যে নিরাপদ সড়কের কথা ভেবে তৈরি হয়েছে এবং এর অপপ্রয়োগের মাধ্যমে পুলিশ চালকদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ উপার্জনের ধান্দা করবে না, সে ব্যাপারে কঠোর নজরদারি রাখারও প্রয়োজন আছে। দেশের মানুষকে বোঝাতে হবে এটা সবার নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি, কাউকে হেনস্তা করা বা শাস্তি দেয়ার জন্য নয়।মানুষের ভেতর সচেতনতা তৈরি হলে কোনো সিন্ডিকেট বা মাফিয়া গোষ্ঠি এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টির সাহস দেখাবে না, মানুষের জীবন নিয়ে হোলিখেলা করার দু:সাহস করবে না।সড়ক আইন কার্যকর হোক, দেশের মানুষ নির্ভয়ে পথ চলুক!

লিখেছেনঃ তুষার গায়েন: কবি।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বাউল সাধক চান মিয়া এবং আমার কিছু উপলব্ধি

"রজনী হইসনা অবসান  আজ নিশিতে আসতে পারেবন্ধু কালাচাঁন।। কত নিশি পোহাইলোমনের আশা মনে রইলো রে কেন বন্ধু আসিলোনা জুড়ায়না পরান। আজ নিশিতে আসতে পারে বন্ধু কালাচাঁন।। বাসর সাজাই আসার আশেআসবে বন্ধু নিশি শেষে দারূন পিরিতের বিষে ধরিল উজান। আজ নিশিতে আসতে পারে বন্ধু কালাচাঁন।। মেঘে ঢাকা আঁধার রাতে কেমনে থাকি একা ঘরে সাধক চাঁনমিয়া কয় কানতে কানতে হইলাম পেরেশান আজ নিশিতে আসতে বন্দু কালাচাঁন।"    গভীর নিশিতে ধ্যান মগ্ন হয়ে কালাচাঁনের অপেক্ষা করছেন সাধক।  সাধক চান মিয়ার শিষ্য বাউল সিরাজউদ্দিনের মতে এটি একটি রাই বিচ্ছেদ। কৃষ্ণের অপেক্ষায় রাধা নিশি বা রাতকে অনুরোধ করছেন 'রাত' যেন না পোহায়  কারণ তার কালা চান যে কোন সময় আসতে পারে। শব্দগুচ্ছ গুলো থেকে সহজেই উপলব্ধি হয় সাধক নিজ দেহকে রাধা আর আত্মাকে কৃষ্ণের সাথে তুলনা করেছেন। দেহ আত্মার মিলন ঘটানোই ছিল সাধকের সাধনা।        বাউল সাধক চান মিয়া উপরোক্ত গানটি রচনা করেছেন। নেত্রকোনা জেলার খাটপুরা গ্রামে ১৩২৫ বঙ্গাব্দে সাধক চান মিয়ার জন্ম। পুরো নাম চান্দেজ্জামান আকন্দ হলেও বা...

বাউল, বাউলতত্ব এবং কিছু কথা

একজন ভদ্র বন্ধু বরের সাথে বাউল সম্প্রদায় নিয়ে বেশ তর্ক হলো রাতে। তর্কের সূত্রপাত ছিল বাউলরা ভাববাদী না বস্তুবাদী। ভাবলাম "বাউলতত্ত্ব"র আলোকে বাউলরা ভাববাদী নাকি বস্তুবাদী তা নিয়ে যৌক্তিক আলোচনা আবশ্যম্ভাবী। কয়েকটি ধারাবাহিক পর্ব লিখে নিজের মনোভাব বোঝানোর চেষ্টা করব।  শুরুতেই শক্তিনাথ ঝাঁ এর বস্তুবাদী বাউল বই থেকে কিছু কথা লিখতে চাই; বাস্তব জগত ও জীবনকে এরা কোন আনুমানিক যুক্তি বা আলৌকিক যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করতে নারাজ। জৈব রাসায়নিক ব্যাখায় এরা নারীর রজঃ এবং পুরুষের বিজে জীবন ও জগত সৃষ্টিকে ব্যাখা করে এবং চার ভূতকে প্রাকৃতিক সৃষ্টি মনে করে। এভাবে মানুষে, প্রকৃতিতে তৈরি করে প্রাণ, প্রাণী। অনুমান ভিত্তিক স্বর্গ, নরক, পরলোক, পুনর্জন্মাদি প্রত্যক্ষ প্রমাণাভাবে বাউল আগ্রাহ্য করে। মানুষ ব্যাতিরিক্ত ঈশ্বরও এরা মানে না। সৃষ্টির নিয়মকে জেনে যিনি নিজেকে পরিচালনা করতে শিখেছেন- তিনিই সাঁই। সুস্থ নিরোগ দীর্ঘজীবন এবং আনন্দকে অনুভব করার বাউল সাধনা এক আনন্দমার্গ।।  বাউলরা ভাববাদী না বস্তুবাদী এর অনেক সূক্ষ বিশ্লেষণ শক্তিনাথের বস্তুবাদী বাউল বইটির মধ্যে আলকপাত করা হয়েছে। সাধারণ সমাজে এ ধা...

আমি কুল হারা কলঙ্কিনী

হাওরের বুক বেয়ে চলছে একটি নৌকা। সেই নৌকায় একজন গুরু তার শিষ্যদের নিয়ে গান করছেন, বলছেন গানের ইতিবৃত্ত। আমি বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের কথা বলছি। ভাটির পুরুষ প্রামাণ্য চিত্রে বাউল শাহ আব্দুল করিম বলেছিলেন এভাবেই- 'আমার কাছে কেউ আইয়ো না, আমার পরামর্শ কেউ লিও না, আমার নীতি বিধান তোমরা মানিও না, আমি আমার কলঙ্ক ডালা মাতাত লইলাইছি, তোমরা কলংকি অইয়ো না, এইটা কইছি আরকি। ঔত মানুষে ভালোবাসেনা, কয় গান গায় এবেটায় মরলে জানাজা মরতাম নায়, ইতা নায় হিতা নায় মুল্লা গুষ্টিয়ে কয় আরকি '। শাহ আব্দুল করিম তাঁর লিখা এবং সুর করা ' আমি কুল হারা কলঙ্কিনী' গানটির ব্যাখ্যা করছিলেন এভাবেই।  বাউল করিমের শিষ্য আব্দুল ওয়াহেদ থেকে জানা যায়, একবার ঈদ জামাত শেষ হবার পর শাহ আব্দুল করিমকে গ্রামের মোল্লারা আক্রমণ করে বসলো। বলা হলো তাকে গান ছেড়ে দিতে হবে। গান বাজনা না ছাড়লে তাকে এক ঘরে করে দেয়া হবে। পরবর্তীতে করিম গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র অর্থাৎ কালনী নদীর তীরে চলে গিয়েছিলেন যেখানে করিমের বাড়ি এবং সমাধি অবস্থিত। ৭১ টিভিতে বাউল শাহ আব্দুল করিমের ছেলে বাউল শাহ নূর জালাল এমনটাই জানিয়েছিলেন।  আমি কুল হারা কলঙ্কিনী...