সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

৪৬ বছর এভাবেই পার হয়েছে

কিছুক্ষণ পরে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। আমরা দুই ভাই বসে বসে দেশাত্মবোধক গান শুনছি। মুক্তিযুদ্ধের সেই সময়কার ইতিহাস নিয়ে ঘাটাছি। একটি প্রোগ্রামে শুনা একটি ঘটনা মনে পড়ল ---

"বেলা ১১ টার দিকে আমাদের বাসায় ঢুকে প্রথমে আমার বাবাকে হত্যা করে তারা৷ বাবা আমাদের বলেছিল খাটের তলার লুকিয়ে থাকতে৷ বাবা আমাদের ঘরের দরজা আগলে দাঁড়িয়েছিলেন৷ ওরা শাবল দিয়ে ব্রিটিশ আমলের সেই ভারি দরজা ভেঙে ফেলে৷ বাবার পেটে বেয়নেট চার্জ করলে বাবা ওখানেই শাহাদাৎ বরণ করেন৷

সেটা দেখে আমার মা খাটের নীচে থেকে চিৎকার করে বেরিয়ে আসেন৷ আমার মাকে টেনে হিচড়ে নিয়ে যেতে থাকে৷ দোতলার সিঁড়ি বারান্দায় নিয়ে গিয়ে আমার মা-কে বেয়নেট চার্জ করে৷ আমার মা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে যান৷ আমার মা চিৎকার করছিলেন আর বলছিলেন, ‘‘আমাকে মেরে ফেলো, আমার বাচ্চাদের মেরো না৷'' তারপরও তারা এক হেঁচকা টানে মায়ের শাড়িটা খুলে ফেলে৷ ওরা বঙ্গবন্ধুর নাম ধরে এবং ‘জয় বাংলা' স্লোগানের কথা তুলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিল৷ এরপর তারা মাকে নিয়ে যায় আমার বাবার হাতে গড়া শখের বাগানে৷ সেখানে আহত অবস্থায় আমার মাকে জীবন্ত পুঁতে ফেলে তারা৷

মাকে নিয়ে যাওয়ার পর আমার বড় ও মেজো ভাই বেরিয়ে আসে৷ ওদেরকেও বেয়নেট চার্জ করা হয়৷ ওরা মনে করেছিল আমরা সবাই মরে গেছি৷ আমাকে বুট দিয়ে লাথি মেরেছিল, তাই আমার গায়েও রক্ত লেগেছিল৷ ওরা চলে যাওয়ার পর ভাই ডাকার পর ওরা জবাব দিয়েছিল৷ আড়াই বছর বয়সি ছোট বোনটাও বেঁচে গিয়েছিল৷ আমি তখন ছোট হলেও সেই অবস্থায় তিন ভাইকে রেলওয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাই৷ তিনদিন ওরা ওখানে বেঁচে ছিল৷ পরে যখন ঘাতকরা জেনেছে, তখন তাদের মিথ্যা কথা বলে বের করে নিয়ে গিয়ে পেছনের একটা গর্তে ফেলে জবাই করে মেরে ফেলে৷ স্বাধীনতার পরে আমরা এ ঘটনা জানতে পেরেছি৷ ৭১ সালে বিহারীরা অনেক বাঙালি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে রেলওয়ের যেখানে যন্ত্রপাতি বানানো হয়, সেই লোহা গলানোর ব্লাস্ট ফার্নেসে (৩৪০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে) জীবন্ত ফেলে হত্যা করেছে৷ "

সাইদুর রহমান, একজন সংবাদ উপস্থাপক। একটি প্রোগ্রামে বলছিলেন ১৯৭১ সালে তার পরিবারের উপর পাকিস্তানী মেলেটারি এবং বিহারীদের চালানো নির্মম হত্যাযজ্ঞের কথা।
এখনো বাংলাদেশে অবাধে ঘুরে বেড়ায় রাজাকার আলবদরা। এখনো এদেশের কিছু ভ্রষ্ট পচা দুর্গন্ধযুক্ত রাজনীতিবিদ রাজাকার আলবদর এবং তাদের দল জামায়াত ইসলামী, ইসলামী ছাত্র শিবিরকে তাদের ছায়ায় জিইয়ে রেখেছে। একাত্তরে পাকিস্তানীদের যেভাবে মেলেটারিদের পথ চিনিয়ে দিয়েছিলো রাজাকার আলবদর বাহিনী। ৪৬ বছর পর সেই রাজাকার আলবদরদের রাজনীতির পথে হাটাচ্ছে এদেশেরই কিছু নষ্ট রাজনীতিবিদ এবং রাজনৈতিক দল

এখনো নিষিদ্ধ করা হয়নি জামায়াত শিবিরের যুদ্ধাপরাধী দল। এখনো তাদের বিচারে, নিষিদ্ধে কিউ খোঁজা হয়। ৪৬ বছর এভাবেই পার হয়েছে, হচ্ছে ।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ (১৪ ডিসেম্বর) । বিনম্র শ্রদ্ধা রইল জাতির সূর্য সন্তানদের প্রতি ।







লিখেছেন: মারূফ অমিত, সাংবাদকর্মী - অনলাইন এক্টিভিস্ট

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বাউল সাধক চান মিয়া এবং আমার কিছু উপলব্ধি

"রজনী হইসনা অবসান  আজ নিশিতে আসতে পারেবন্ধু কালাচাঁন।। কত নিশি পোহাইলোমনের আশা মনে রইলো রে কেন বন্ধু আসিলোনা জুড়ায়না পরান। আজ নিশিতে আসতে পারে বন্ধু কালাচাঁন।। বাসর সাজাই আসার আশেআসবে বন্ধু নিশি শেষে দারূন পিরিতের বিষে ধরিল উজান। আজ নিশিতে আসতে পারে বন্ধু কালাচাঁন।। মেঘে ঢাকা আঁধার রাতে কেমনে থাকি একা ঘরে সাধক চাঁনমিয়া কয় কানতে কানতে হইলাম পেরেশান আজ নিশিতে আসতে বন্দু কালাচাঁন।"    গভীর নিশিতে ধ্যান মগ্ন হয়ে কালাচাঁনের অপেক্ষা করছেন সাধক।  সাধক চান মিয়ার শিষ্য বাউল সিরাজউদ্দিনের মতে এটি একটি রাই বিচ্ছেদ। কৃষ্ণের অপেক্ষায় রাধা নিশি বা রাতকে অনুরোধ করছেন 'রাত' যেন না পোহায়  কারণ তার কালা চান যে কোন সময় আসতে পারে। শব্দগুচ্ছ গুলো থেকে সহজেই উপলব্ধি হয় সাধক নিজ দেহকে রাধা আর আত্মাকে কৃষ্ণের সাথে তুলনা করেছেন। দেহ আত্মার মিলন ঘটানোই ছিল সাধকের সাধনা।        বাউল সাধক চান মিয়া উপরোক্ত গানটি রচনা করেছেন। নেত্রকোনা জেলার খাটপুরা গ্রামে ১৩২৫ বঙ্গাব্দে সাধক চান মিয়ার জন্ম। পুরো নাম চান্দেজ্জামান আকন্দ হলেও বা...

বাউল, বাউলতত্ব এবং কিছু কথা

একজন ভদ্র বন্ধু বরের সাথে বাউল সম্প্রদায় নিয়ে বেশ তর্ক হলো রাতে। তর্কের সূত্রপাত ছিল বাউলরা ভাববাদী না বস্তুবাদী। ভাবলাম "বাউলতত্ত্ব"র আলোকে বাউলরা ভাববাদী নাকি বস্তুবাদী তা নিয়ে যৌক্তিক আলোচনা আবশ্যম্ভাবী। কয়েকটি ধারাবাহিক পর্ব লিখে নিজের মনোভাব বোঝানোর চেষ্টা করব।  শুরুতেই শক্তিনাথ ঝাঁ এর বস্তুবাদী বাউল বই থেকে কিছু কথা লিখতে চাই; বাস্তব জগত ও জীবনকে এরা কোন আনুমানিক যুক্তি বা আলৌকিক যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করতে নারাজ। জৈব রাসায়নিক ব্যাখায় এরা নারীর রজঃ এবং পুরুষের বিজে জীবন ও জগত সৃষ্টিকে ব্যাখা করে এবং চার ভূতকে প্রাকৃতিক সৃষ্টি মনে করে। এভাবে মানুষে, প্রকৃতিতে তৈরি করে প্রাণ, প্রাণী। অনুমান ভিত্তিক স্বর্গ, নরক, পরলোক, পুনর্জন্মাদি প্রত্যক্ষ প্রমাণাভাবে বাউল আগ্রাহ্য করে। মানুষ ব্যাতিরিক্ত ঈশ্বরও এরা মানে না। সৃষ্টির নিয়মকে জেনে যিনি নিজেকে পরিচালনা করতে শিখেছেন- তিনিই সাঁই। সুস্থ নিরোগ দীর্ঘজীবন এবং আনন্দকে অনুভব করার বাউল সাধনা এক আনন্দমার্গ।।  বাউলরা ভাববাদী না বস্তুবাদী এর অনেক সূক্ষ বিশ্লেষণ শক্তিনাথের বস্তুবাদী বাউল বইটির মধ্যে আলকপাত করা হয়েছে। সাধারণ সমাজে এ ধা...

আমি কুল হারা কলঙ্কিনী

হাওরের বুক বেয়ে চলছে একটি নৌকা। সেই নৌকায় একজন গুরু তার শিষ্যদের নিয়ে গান করছেন, বলছেন গানের ইতিবৃত্ত। আমি বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের কথা বলছি। ভাটির পুরুষ প্রামাণ্য চিত্রে বাউল শাহ আব্দুল করিম বলেছিলেন এভাবেই- 'আমার কাছে কেউ আইয়ো না, আমার পরামর্শ কেউ লিও না, আমার নীতি বিধান তোমরা মানিও না, আমি আমার কলঙ্ক ডালা মাতাত লইলাইছি, তোমরা কলংকি অইয়ো না, এইটা কইছি আরকি। ঔত মানুষে ভালোবাসেনা, কয় গান গায় এবেটায় মরলে জানাজা মরতাম নায়, ইতা নায় হিতা নায় মুল্লা গুষ্টিয়ে কয় আরকি '। শাহ আব্দুল করিম তাঁর লিখা এবং সুর করা ' আমি কুল হারা কলঙ্কিনী' গানটির ব্যাখ্যা করছিলেন এভাবেই।  বাউল করিমের শিষ্য আব্দুল ওয়াহেদ থেকে জানা যায়, একবার ঈদ জামাত শেষ হবার পর শাহ আব্দুল করিমকে গ্রামের মোল্লারা আক্রমণ করে বসলো। বলা হলো তাকে গান ছেড়ে দিতে হবে। গান বাজনা না ছাড়লে তাকে এক ঘরে করে দেয়া হবে। পরবর্তীতে করিম গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র অর্থাৎ কালনী নদীর তীরে চলে গিয়েছিলেন যেখানে করিমের বাড়ি এবং সমাধি অবস্থিত। ৭১ টিভিতে বাউল শাহ আব্দুল করিমের ছেলে বাউল শাহ নূর জালাল এমনটাই জানিয়েছিলেন।  আমি কুল হারা কলঙ্কিনী...