সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কবিতাগুচ্ছ



কবিতাগুচ্ছ                                              

                             মারূফ অমিত

১.
মাতাল যুবকের রাত নিষ্প্রাণ একা 
আবছা আলোয় ছেয়ে থাকা আকাশে 
অবলীলায় তাকানো, প্রলয় করা মন 
সুরের ঝঙ্কারে কেঁপে ওঠার প্রণয়।
শীত নেমে এসেছে পৃথিবী জুড়ে 
তবুও ঘাম ঝরে, লেপ্টে যায় বিশাল স্তনে 
সমুদ্রের স্রোতে গোংগানোর শব্দ 
মধুর করে তোলা সৈকতের বেলাভূমি। 
নিকোটিনের কুন্ডলি উড়ে যায় মন্ডলে 
শত পথ ছেড়ে মিশে যায় অসীম লীলায় 
আংগুলের ফাঁকে লেগে থাকা ভালোবাসা 
বৃষ্টি ঝরা অঠালো এবং মেঠো।

২০/১২/১৮ 


২.
দুই প্রহরে ঘুম ভেংগে যাওয়া যুবক 
নিশ্বাসের শব্দ এখনো মিশে যায় দিগন্তে 
খা খা সীমান্ত পেরিয়ে সুখের আওয়াজ 
ক্রমশ দূর থেকে গহীনে হারিয়ে যায়।
একদিন রাত গভীর হবে তীব্রতায় 
অন্ধকারে মেলে যাবে যৌবনের ডাহুক 
আলো আঁধারের খেলায় মিশবে শরীর 
শেষ রাতে বৃষ্টি কুয়াশার সংমিশ্রণ। 
কত রাত এভাবে বয়ে যায় 
ভাবনার দেওয়ালে ছোঁয়া লাগে 
অজস্র বাসনার, ভালোবাসার।

০১/০৫/২০১৯ 



.
ভেবে চলে যায় সময় 
মাতাল যুবকের দূর দৃষ্টি 
শুভ্র মেঘের আড়ালে  উড়োজাহাজ 
ব্যাথায় বিষাদের মিলন৷
প্রেমিকার ঠোঁটে লাগামহীন সৌন্দর্য  
আলতো ছোঁয়ায় স্পন্দনের সারদ 
ঘুমহীন চোখে ফাঁকা পথ 
লেহন মর্দনে পুলকিত দেহ। 
ক্ষুধা নেই, আকুতি নেই 
প্রণয় প্রবেশের মধু ক্ষণ 
হৃদয় জুড়ানো ভালোবাসা
এভাবেই কবিতার পথচলা।

০৫/১২/১৮ 



.
বাঁশি, কবিতার খাতা নিয়ে বসে থাকা যুবক 
নিরব রাতে প্রলাপ খোঁজা মন 
ডাহুকের ডানা মেলা শৈশব হাঁটা লগ্ন 
ফিরে পাবার প্রয়াসে নিমগ্নতার প্রহার।
চার লাইনে শেষ হয় কবিতার গোংগানো 
কবিত্ব থেমে যায় হাহাকারের ডোবায় 
সুর ঝংকারে বেজে উঠে স্মৃতির আয়নাঘর 
অদ্ভুতুরে মনে আলপনা আঁকা তোমার সাঁঝ।
আসলে কবিতার কোন মানে নেই 
নেই অর্থ অবগাহন অবলীলার বাজনা 
রাস্তার সোডিয়াম আলোয় আবছা স্তন বৃন্তের ছায়া 
গা ছমছমে দাঁড়িয়ে থাকা পথিকের হাজারো লীলা।
এ বৃষ্টি কুয়াশায় মাখিয়ে নেবার আকুতি 
কবিতা সুরে লেপ্টে আছে জল ঝরা তৃপ্তির মিনতি।

০২/১২/১৮

.
একদা ওপাশে দেখতাম 
জানালার পাশের দূরের আকাশ 
উঁচু টিলার সারি, হাওরের বজরা 
সীমাহীন সৌন্দর্যের লীলা।
প্রিয়তমার পরশে পুলকিত সময়ে 
বাউরি বাতাসে ভালোবাসার দোলা
দূর সৈকতে আছড়ে পড়া ঢেউয়ে 
স্পর্শের আকুলতায় কামনার ভাটা।
একদিন নিভে যাবে পৃথিবী 
থেমে যাবে কলতান 
একাকার সমুদ্রে প্রেমিকার সুর 
লাগবে আদরের বেহুর।

১০/১১/১৮ 


.
সোডিয়াম আলোয় একাকার চারপাশ 
লাল শাড়িতে নববধূ রাঙা 
আলপনা আঁকা হাতের স্পর্শ 
সফেদ, শুভ্র, কামনাময়।
দূরের ঐ নদীর পাড়ে দাঁড়িয়েছে রমণী 
ঝিরি বাতাসে আউলা চুলের দোলা 
উচু স্তনের ঝলকে মাতাল পরিবেশ 
মুচকি হাসি লেগে থাকা স্নিগ্ধ প্রকৃতির কলতান। 
দিগন্তেএ সমাহারে অস্ত নামে সূর্য 
ঘরে ফেরা রাঙা বধূর অপেক্ষায় মলিন পথিক 
গোধূলি সন্ধ্যায় একাকার দুজন 
এভাবেই শুরু হয় ভালোবাসার রাত।

০২/১১/২০১৮


.
জানালার পাশে দাঁড়ানো নিথর মন 
বাঁশির সুরে ভেসে যাওয়া স্তব্দতা 
নীল কণ্ঠের আর্তনাদে 
তোমায় খোঁজ করে যাওয়া মন।
হেমন্ত কার্তিকের পথে উঠানে আমি 
আলপনা আঁকা হাত ছুঁয়ে 
প্রেম নিবেদনের চেষ্টা 
অবুঝ অলস ভালোবাসার বাণী 
স্নিগ্ধ ভোরের হাতছানি।
এভাবেই নিশি ভোরের মিলন 
তোমার আমার যোজন বিয়োজন। 

৩১/১০/১৮ 

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বাউল সাধক চান মিয়া এবং আমার কিছু উপলব্ধি

"রজনী হইসনা অবসান  আজ নিশিতে আসতে পারেবন্ধু কালাচাঁন।। কত নিশি পোহাইলোমনের আশা মনে রইলো রে কেন বন্ধু আসিলোনা জুড়ায়না পরান। আজ নিশিতে আসতে পারে বন্ধু কালাচাঁন।। বাসর সাজাই আসার আশেআসবে বন্ধু নিশি শেষে দারূন পিরিতের বিষে ধরিল উজান। আজ নিশিতে আসতে পারে বন্ধু কালাচাঁন।। মেঘে ঢাকা আঁধার রাতে কেমনে থাকি একা ঘরে সাধক চাঁনমিয়া কয় কানতে কানতে হইলাম পেরেশান আজ নিশিতে আসতে বন্দু কালাচাঁন।"    গভীর নিশিতে ধ্যান মগ্ন হয়ে কালাচাঁনের অপেক্ষা করছেন সাধক।  সাধক চান মিয়ার শিষ্য বাউল সিরাজউদ্দিনের মতে এটি একটি রাই বিচ্ছেদ। কৃষ্ণের অপেক্ষায় রাধা নিশি বা রাতকে অনুরোধ করছেন 'রাত' যেন না পোহায়  কারণ তার কালা চান যে কোন সময় আসতে পারে। শব্দগুচ্ছ গুলো থেকে সহজেই উপলব্ধি হয় সাধক নিজ দেহকে রাধা আর আত্মাকে কৃষ্ণের সাথে তুলনা করেছেন। দেহ আত্মার মিলন ঘটানোই ছিল সাধকের সাধনা।        বাউল সাধক চান মিয়া উপরোক্ত গানটি রচনা করেছেন। নেত্রকোনা জেলার খাটপুরা গ্রামে ১৩২৫ বঙ্গাব্দে সাধক চান মিয়ার জন্ম। পুরো নাম চান্দেজ্জামান আকন্দ হলেও বা...

বাউল, বাউলতত্ব এবং কিছু কথা

একজন ভদ্র বন্ধু বরের সাথে বাউল সম্প্রদায় নিয়ে বেশ তর্ক হলো রাতে। তর্কের সূত্রপাত ছিল বাউলরা ভাববাদী না বস্তুবাদী। ভাবলাম "বাউলতত্ত্ব"র আলোকে বাউলরা ভাববাদী নাকি বস্তুবাদী তা নিয়ে যৌক্তিক আলোচনা আবশ্যম্ভাবী। কয়েকটি ধারাবাহিক পর্ব লিখে নিজের মনোভাব বোঝানোর চেষ্টা করব।  শুরুতেই শক্তিনাথ ঝাঁ এর বস্তুবাদী বাউল বই থেকে কিছু কথা লিখতে চাই; বাস্তব জগত ও জীবনকে এরা কোন আনুমানিক যুক্তি বা আলৌকিক যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করতে নারাজ। জৈব রাসায়নিক ব্যাখায় এরা নারীর রজঃ এবং পুরুষের বিজে জীবন ও জগত সৃষ্টিকে ব্যাখা করে এবং চার ভূতকে প্রাকৃতিক সৃষ্টি মনে করে। এভাবে মানুষে, প্রকৃতিতে তৈরি করে প্রাণ, প্রাণী। অনুমান ভিত্তিক স্বর্গ, নরক, পরলোক, পুনর্জন্মাদি প্রত্যক্ষ প্রমাণাভাবে বাউল আগ্রাহ্য করে। মানুষ ব্যাতিরিক্ত ঈশ্বরও এরা মানে না। সৃষ্টির নিয়মকে জেনে যিনি নিজেকে পরিচালনা করতে শিখেছেন- তিনিই সাঁই। সুস্থ নিরোগ দীর্ঘজীবন এবং আনন্দকে অনুভব করার বাউল সাধনা এক আনন্দমার্গ।।  বাউলরা ভাববাদী না বস্তুবাদী এর অনেক সূক্ষ বিশ্লেষণ শক্তিনাথের বস্তুবাদী বাউল বইটির মধ্যে আলকপাত করা হয়েছে। সাধারণ সমাজে এ ধা...

আমি কুল হারা কলঙ্কিনী

হাওরের বুক বেয়ে চলছে একটি নৌকা। সেই নৌকায় একজন গুরু তার শিষ্যদের নিয়ে গান করছেন, বলছেন গানের ইতিবৃত্ত। আমি বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের কথা বলছি। ভাটির পুরুষ প্রামাণ্য চিত্রে বাউল শাহ আব্দুল করিম বলেছিলেন এভাবেই- 'আমার কাছে কেউ আইয়ো না, আমার পরামর্শ কেউ লিও না, আমার নীতি বিধান তোমরা মানিও না, আমি আমার কলঙ্ক ডালা মাতাত লইলাইছি, তোমরা কলংকি অইয়ো না, এইটা কইছি আরকি। ঔত মানুষে ভালোবাসেনা, কয় গান গায় এবেটায় মরলে জানাজা মরতাম নায়, ইতা নায় হিতা নায় মুল্লা গুষ্টিয়ে কয় আরকি '। শাহ আব্দুল করিম তাঁর লিখা এবং সুর করা ' আমি কুল হারা কলঙ্কিনী' গানটির ব্যাখ্যা করছিলেন এভাবেই।  বাউল করিমের শিষ্য আব্দুল ওয়াহেদ থেকে জানা যায়, একবার ঈদ জামাত শেষ হবার পর শাহ আব্দুল করিমকে গ্রামের মোল্লারা আক্রমণ করে বসলো। বলা হলো তাকে গান ছেড়ে দিতে হবে। গান বাজনা না ছাড়লে তাকে এক ঘরে করে দেয়া হবে। পরবর্তীতে করিম গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র অর্থাৎ কালনী নদীর তীরে চলে গিয়েছিলেন যেখানে করিমের বাড়ি এবং সমাধি অবস্থিত। ৭১ টিভিতে বাউল শাহ আব্দুল করিমের ছেলে বাউল শাহ নূর জালাল এমনটাই জানিয়েছিলেন।  আমি কুল হারা কলঙ্কিনী...