সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

চাঁদের হাসি এবং মানুষের উপলব্ধি

চাঁদ, প্রকৃতির অন্যতম সুন্দর একটি উদাহরণ। মানুষ গুন গুন করে সব সময়ই বলে, ঐ আকাশের তারায় তারায় চাঁদের জোছনায়। রূপালী চাঁদ এবং পূর্ণিমা নিয়ে এবারের ফটোগ্রাফি।




চাঁদ নিয়ে বলেছেন ইঞ্জিনিয়ার মুহিত চৌধুরী। তিনি ভাবেন চাঁদকে নিয়ে, বলেছেন, 'সেদিন আকাশে শ্রাবণের মেঘ ছিল, ছিল না চাঁদ। ভোরের আকাশে সূর্যের আলো ঢেকে তোমার রক্ত মিশে গেল সমূদ্র,সমতটে।'





চাঁদের হাসিতে পুলকিত হোন জয়ন্ত। চাঁদ দেখলেই তিনি আনন্দে দিশেহারা। চাঁদের আলোতে তিনি যেন উপলব্ধি করেন সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদকে। তাই বলেই ফেললেন তাঁর উক্তি, ''জোছনা আমার অতি প্রিয় বিষয়, প্রবল জোছনা আমার মধ্যে এক ধরনের হাহাকার তৈরি করে, সেই হাহাকারের উৎস অনুসন্ধান করে জীবন পার করে দিলাম''।





মাঝ রাতে চাঁদের প্রশ্ন করতে চমকে উঠলেন অনলাইন এক্টিভিস্ট অনিমেষ রহমান। চাঁদ নিয়ে বলতে গিয়ে একটু থামলেন। পরে হাসি মুখেই বলে দিলেন, "চাঁদ হলো মানুষের প্রথম প্রেম। চাঁদ-নদী-নারি আর কবিতার নাম জীবন ।"





আজ আতিকুল হক'র জন্মদিন। মাঝ রাতে উইশ। আকাশে চাঁদ। জানালেন, "সবাই আলো দেখে, আমি কলংক দেখি আর সুকান্ত দেখে ঝলসানো রুটি"।

আবার গলে পড়া রূপালী চাঁদে ছড়ানো বিষাদ খুঁজে পেয়েছেন কৃষ্ণকলি সিফাত। তার আশা, ভালবাসা বেঁচে থাকে জোছনার সিঁড়িতে।








হোসাইন আহমেদ চৌধুরী, রাজনীতিবিদ। দেশ রাজনীতির সমীকরণ নিয়ে ভাবনায় মশগুল যিনি। রাজনীতির ফাঁকে করেন প্রকৃতি বিলাস। চাঁদ নিয়ে লিখেছেন, পছন্দ হয় নি। আবার মুছেছেন, আবার লিখেছেন। সবশেষে এই রাজনীতিবিদের চাঁদ ভাবনা এমন, 'আঁধার রাত্রিতে নিঃসঙ্গ চাঁদই আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু। চাঁদের ভেতর থেকে জ্যোৎস্না হয়ে ঠিকরে পড়া আলোর ঝলকানি ভুলিয়ে দেয় দিনের নিঃসঙ্গতার সকল বেদনা।' চাঁদ নিয়ে এটাই তার ভাবনা। 








লিখেছেন, 
মারূফ অমিত 
অনলাইন এক্টিভিস্ট।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বাউল সাধক চান মিয়া এবং আমার কিছু উপলব্ধি

"রজনী হইসনা অবসান  আজ নিশিতে আসতে পারেবন্ধু কালাচাঁন।। কত নিশি পোহাইলোমনের আশা মনে রইলো রে কেন বন্ধু আসিলোনা জুড়ায়না পরান। আজ নিশিতে আসতে পারে বন্ধু কালাচাঁন।। বাসর সাজাই আসার আশেআসবে বন্ধু নিশি শেষে দারূন পিরিতের বিষে ধরিল উজান। আজ নিশিতে আসতে পারে বন্ধু কালাচাঁন।। মেঘে ঢাকা আঁধার রাতে কেমনে থাকি একা ঘরে সাধক চাঁনমিয়া কয় কানতে কানতে হইলাম পেরেশান আজ নিশিতে আসতে বন্দু কালাচাঁন।"    গভীর নিশিতে ধ্যান মগ্ন হয়ে কালাচাঁনের অপেক্ষা করছেন সাধক।  সাধক চান মিয়ার শিষ্য বাউল সিরাজউদ্দিনের মতে এটি একটি রাই বিচ্ছেদ। কৃষ্ণের অপেক্ষায় রাধা নিশি বা রাতকে অনুরোধ করছেন 'রাত' যেন না পোহায়  কারণ তার কালা চান যে কোন সময় আসতে পারে। শব্দগুচ্ছ গুলো থেকে সহজেই উপলব্ধি হয় সাধক নিজ দেহকে রাধা আর আত্মাকে কৃষ্ণের সাথে তুলনা করেছেন। দেহ আত্মার মিলন ঘটানোই ছিল সাধকের সাধনা।        বাউল সাধক চান মিয়া উপরোক্ত গানটি রচনা করেছেন। নেত্রকোনা জেলার খাটপুরা গ্রামে ১৩২৫ বঙ্গাব্দে সাধক চান মিয়ার জন্ম। পুরো নাম চান্দেজ্জামান আকন্দ হলেও বা...

বাউল, বাউলতত্ব এবং কিছু কথা

একজন ভদ্র বন্ধু বরের সাথে বাউল সম্প্রদায় নিয়ে বেশ তর্ক হলো রাতে। তর্কের সূত্রপাত ছিল বাউলরা ভাববাদী না বস্তুবাদী। ভাবলাম "বাউলতত্ত্ব"র আলোকে বাউলরা ভাববাদী নাকি বস্তুবাদী তা নিয়ে যৌক্তিক আলোচনা আবশ্যম্ভাবী। কয়েকটি ধারাবাহিক পর্ব লিখে নিজের মনোভাব বোঝানোর চেষ্টা করব।  শুরুতেই শক্তিনাথ ঝাঁ এর বস্তুবাদী বাউল বই থেকে কিছু কথা লিখতে চাই; বাস্তব জগত ও জীবনকে এরা কোন আনুমানিক যুক্তি বা আলৌকিক যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করতে নারাজ। জৈব রাসায়নিক ব্যাখায় এরা নারীর রজঃ এবং পুরুষের বিজে জীবন ও জগত সৃষ্টিকে ব্যাখা করে এবং চার ভূতকে প্রাকৃতিক সৃষ্টি মনে করে। এভাবে মানুষে, প্রকৃতিতে তৈরি করে প্রাণ, প্রাণী। অনুমান ভিত্তিক স্বর্গ, নরক, পরলোক, পুনর্জন্মাদি প্রত্যক্ষ প্রমাণাভাবে বাউল আগ্রাহ্য করে। মানুষ ব্যাতিরিক্ত ঈশ্বরও এরা মানে না। সৃষ্টির নিয়মকে জেনে যিনি নিজেকে পরিচালনা করতে শিখেছেন- তিনিই সাঁই। সুস্থ নিরোগ দীর্ঘজীবন এবং আনন্দকে অনুভব করার বাউল সাধনা এক আনন্দমার্গ।।  বাউলরা ভাববাদী না বস্তুবাদী এর অনেক সূক্ষ বিশ্লেষণ শক্তিনাথের বস্তুবাদী বাউল বইটির মধ্যে আলকপাত করা হয়েছে। সাধারণ সমাজে এ ধা...

আমি কুল হারা কলঙ্কিনী

হাওরের বুক বেয়ে চলছে একটি নৌকা। সেই নৌকায় একজন গুরু তার শিষ্যদের নিয়ে গান করছেন, বলছেন গানের ইতিবৃত্ত। আমি বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের কথা বলছি। ভাটির পুরুষ প্রামাণ্য চিত্রে বাউল শাহ আব্দুল করিম বলেছিলেন এভাবেই- 'আমার কাছে কেউ আইয়ো না, আমার পরামর্শ কেউ লিও না, আমার নীতি বিধান তোমরা মানিও না, আমি আমার কলঙ্ক ডালা মাতাত লইলাইছি, তোমরা কলংকি অইয়ো না, এইটা কইছি আরকি। ঔত মানুষে ভালোবাসেনা, কয় গান গায় এবেটায় মরলে জানাজা মরতাম নায়, ইতা নায় হিতা নায় মুল্লা গুষ্টিয়ে কয় আরকি '। শাহ আব্দুল করিম তাঁর লিখা এবং সুর করা ' আমি কুল হারা কলঙ্কিনী' গানটির ব্যাখ্যা করছিলেন এভাবেই।  বাউল করিমের শিষ্য আব্দুল ওয়াহেদ থেকে জানা যায়, একবার ঈদ জামাত শেষ হবার পর শাহ আব্দুল করিমকে গ্রামের মোল্লারা আক্রমণ করে বসলো। বলা হলো তাকে গান ছেড়ে দিতে হবে। গান বাজনা না ছাড়লে তাকে এক ঘরে করে দেয়া হবে। পরবর্তীতে করিম গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র অর্থাৎ কালনী নদীর তীরে চলে গিয়েছিলেন যেখানে করিমের বাড়ি এবং সমাধি অবস্থিত। ৭১ টিভিতে বাউল শাহ আব্দুল করিমের ছেলে বাউল শাহ নূর জালাল এমনটাই জানিয়েছিলেন।  আমি কুল হারা কলঙ্কিনী...