সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

রাজনৈতিক ডিগবাজিঃ উপজেলা 'রাজনগর'

আলাপচারিতায় ছিলেন সেলিম ওয়াদা শেলু, শহীদ তারা মিয়ার ভাগিনা।

ইউনিয়নঃ উত্তরভাগ, উপজেলা- রাজনগর, জেলা - মৌলভীবাজার


আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রাজনগর উপজেলার ০২নং উত্তরভাগ ইউনিয়নে একটা রাজাকার পরিবার, এমনকি বিএনপি/জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত একটি পরিবারের হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দেয়া হয়েছে, এমনটা জানালেন একজন স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা।  তিনি জানালেন, "এলাকাবাসী স্বাক্ষী আছে, রাজনগর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা স্বাক্ষী আছেন  ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই পরিবারের কি ভূমিকা ছিল।


আলোচনা প্রসঙ্গে শহীদ তারা মিয়ার ভাগিনা জানালেন, ঐ গ্রামের একজন যুবক ছিলেন উনার নাম ছিল তারা মিয়া। মহান মুক্তিযুদ্ধে তারা মিয়ার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।  শহীদ তারা মিয়া কে স্থানীয় রাজাকার পরিবারের সদস্য গুলো নির্মম ভাই অত্যাচার নির্যাতন করে, গরু বাঁধার দড়ি দিয়ে বেঁধে ৮ই ডিসেম্বর ১৯৭১ ইং পাক-সেনাদের হাতে তুলে দিয়েছিল, ১৩ই ডিসেম্বর তারা মিয়া কে হত্যা করানো হয়। তার দাবী ঐ রাজাকারের নাতী নাকি আজ নৌকা প্রতীকের প্রার্থী। 


আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি জানালেন ,"এই হত্যা এবং হত্যা পরবর্তী চিত্র ছিল আরও ভয়াবহ, শহীদ তারা মিয়ার পৈত্রিক সম্পত্তি এবং বসতভিটা সব হস্তান্তর করে নেয়া হয়েছে। তৎকালীন প্রয়াত সমাজকল্যাণমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈদয় মহসিন আলী এবং গণপরিষদ সদস্য, সাবেক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান,  বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আজিজুর রহমান এসবের জলন্ত স্বাক্ষী ছিলেন। তিনি বললেন, প্রয়াত মন্ত্রী মহোদয় শহীদ তারা মিয়ার সমাধি পাকাকরণ এবং সমাধিতে যাবার রাস্তা  "শহীদ তারা মিয়া" নামকরণ করেছিলেন। 

বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ তারা মিয়া হত্যার নেপথ্যে ছিল ঐ পরিবার। যুদ্ধপরাধ বিচার প্রসঙ্গ আলোচনায় আসলে তিনি জানান, পরিবারের একজন যুদ্ধ অপরাধ মামলায় ১৮ মাস জেলও খেটেছিল। 

  



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বাউল সাধক চান মিয়া এবং আমার কিছু উপলব্ধি

"রজনী হইসনা অবসান  আজ নিশিতে আসতে পারেবন্ধু কালাচাঁন।। কত নিশি পোহাইলোমনের আশা মনে রইলো রে কেন বন্ধু আসিলোনা জুড়ায়না পরান। আজ নিশিতে আসতে পারে বন্ধু কালাচাঁন।। বাসর সাজাই আসার আশেআসবে বন্ধু নিশি শেষে দারূন পিরিতের বিষে ধরিল উজান। আজ নিশিতে আসতে পারে বন্ধু কালাচাঁন।। মেঘে ঢাকা আঁধার রাতে কেমনে থাকি একা ঘরে সাধক চাঁনমিয়া কয় কানতে কানতে হইলাম পেরেশান আজ নিশিতে আসতে বন্দু কালাচাঁন।"    গভীর নিশিতে ধ্যান মগ্ন হয়ে কালাচাঁনের অপেক্ষা করছেন সাধক।  সাধক চান মিয়ার শিষ্য বাউল সিরাজউদ্দিনের মতে এটি একটি রাই বিচ্ছেদ। কৃষ্ণের অপেক্ষায় রাধা নিশি বা রাতকে অনুরোধ করছেন 'রাত' যেন না পোহায়  কারণ তার কালা চান যে কোন সময় আসতে পারে। শব্দগুচ্ছ গুলো থেকে সহজেই উপলব্ধি হয় সাধক নিজ দেহকে রাধা আর আত্মাকে কৃষ্ণের সাথে তুলনা করেছেন। দেহ আত্মার মিলন ঘটানোই ছিল সাধকের সাধনা।        বাউল সাধক চান মিয়া উপরোক্ত গানটি রচনা করেছেন। নেত্রকোনা জেলার খাটপুরা গ্রামে ১৩২৫ বঙ্গাব্দে সাধক চান মিয়ার জন্ম। পুরো নাম চান্দেজ্জামান আকন্দ হলেও বা...

বাউল, বাউলতত্ব এবং কিছু কথা

একজন ভদ্র বন্ধু বরের সাথে বাউল সম্প্রদায় নিয়ে বেশ তর্ক হলো রাতে। তর্কের সূত্রপাত ছিল বাউলরা ভাববাদী না বস্তুবাদী। ভাবলাম "বাউলতত্ত্ব"র আলোকে বাউলরা ভাববাদী নাকি বস্তুবাদী তা নিয়ে যৌক্তিক আলোচনা আবশ্যম্ভাবী। কয়েকটি ধারাবাহিক পর্ব লিখে নিজের মনোভাব বোঝানোর চেষ্টা করব।  শুরুতেই শক্তিনাথ ঝাঁ এর বস্তুবাদী বাউল বই থেকে কিছু কথা লিখতে চাই; বাস্তব জগত ও জীবনকে এরা কোন আনুমানিক যুক্তি বা আলৌকিক যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করতে নারাজ। জৈব রাসায়নিক ব্যাখায় এরা নারীর রজঃ এবং পুরুষের বিজে জীবন ও জগত সৃষ্টিকে ব্যাখা করে এবং চার ভূতকে প্রাকৃতিক সৃষ্টি মনে করে। এভাবে মানুষে, প্রকৃতিতে তৈরি করে প্রাণ, প্রাণী। অনুমান ভিত্তিক স্বর্গ, নরক, পরলোক, পুনর্জন্মাদি প্রত্যক্ষ প্রমাণাভাবে বাউল আগ্রাহ্য করে। মানুষ ব্যাতিরিক্ত ঈশ্বরও এরা মানে না। সৃষ্টির নিয়মকে জেনে যিনি নিজেকে পরিচালনা করতে শিখেছেন- তিনিই সাঁই। সুস্থ নিরোগ দীর্ঘজীবন এবং আনন্দকে অনুভব করার বাউল সাধনা এক আনন্দমার্গ।।  বাউলরা ভাববাদী না বস্তুবাদী এর অনেক সূক্ষ বিশ্লেষণ শক্তিনাথের বস্তুবাদী বাউল বইটির মধ্যে আলকপাত করা হয়েছে। সাধারণ সমাজে এ ধা...

আমি কুল হারা কলঙ্কিনী

হাওরের বুক বেয়ে চলছে একটি নৌকা। সেই নৌকায় একজন গুরু তার শিষ্যদের নিয়ে গান করছেন, বলছেন গানের ইতিবৃত্ত। আমি বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের কথা বলছি। ভাটির পুরুষ প্রামাণ্য চিত্রে বাউল শাহ আব্দুল করিম বলেছিলেন এভাবেই- 'আমার কাছে কেউ আইয়ো না, আমার পরামর্শ কেউ লিও না, আমার নীতি বিধান তোমরা মানিও না, আমি আমার কলঙ্ক ডালা মাতাত লইলাইছি, তোমরা কলংকি অইয়ো না, এইটা কইছি আরকি। ঔত মানুষে ভালোবাসেনা, কয় গান গায় এবেটায় মরলে জানাজা মরতাম নায়, ইতা নায় হিতা নায় মুল্লা গুষ্টিয়ে কয় আরকি '। শাহ আব্দুল করিম তাঁর লিখা এবং সুর করা ' আমি কুল হারা কলঙ্কিনী' গানটির ব্যাখ্যা করছিলেন এভাবেই।  বাউল করিমের শিষ্য আব্দুল ওয়াহেদ থেকে জানা যায়, একবার ঈদ জামাত শেষ হবার পর শাহ আব্দুল করিমকে গ্রামের মোল্লারা আক্রমণ করে বসলো। বলা হলো তাকে গান ছেড়ে দিতে হবে। গান বাজনা না ছাড়লে তাকে এক ঘরে করে দেয়া হবে। পরবর্তীতে করিম গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র অর্থাৎ কালনী নদীর তীরে চলে গিয়েছিলেন যেখানে করিমের বাড়ি এবং সমাধি অবস্থিত। ৭১ টিভিতে বাউল শাহ আব্দুল করিমের ছেলে বাউল শাহ নূর জালাল এমনটাই জানিয়েছিলেন।  আমি কুল হারা কলঙ্কিনী...