সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

একজন বীর প্রতিকের শেষ ইচ্ছা

একজন বীরপ্রতীকের শেষ ইচ্ছে আজও পুর্ন হলো না, প্রিয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বরাবর আবেদন। সিলেটের ৪ জন বীর প্রতিকের ১ জন . এম সি কলেজের সাবেক ভি.পি , ৭১ এর রণাঙ্গনের সম্মুখ সমরের যুদ্ধা - বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম বীর প্রতিক , বাড়ি - আগ্নপাড়া , দেওকলস , বিশ্বনাথ সিলেট । এই দেশপ্রেমিক মহান মুক্তিযোদ্ধার নিজ গ্রামের মুল সড়ক পাকা করণের জন্য বার বার ধর্ণা দিতেহচ্ছে। অথচ দেশে কত বড় বড় প্রকল্প হয় , কিন্তু আফসোস উনার গ্রামের একটি সড়কের ব্যাপারে নিরব বিশ্বনাথ উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের দ্বায়িত্বরত কর্মকর্তারা ! কী কারনে আজ পর্যন্ত উন্নয়ন বঞ্চিত এ এলাকা ——- বিশ্বনাথ উপজেলার দেওকলস ইউনিয়নের আগ্নপাড়া রাস্তাটি গুদামঘাট-আগ্নপাড়া-মজলিসপুর পর্যন্ত আড়াই কিঃ মিঃ রাস্তা। উক্ত রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার লোক যাতায়াত করেন। রাস্তাটি দ্রুত পাঁকা করনের জন্য এলাকাবাসী সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান। জানাযায় আগ্ন পাড়া গ্রামে রয়েছে ৩৬০ আউলিয়ার সফর সঙ্গী ঐসৎ শাহের মাজার ও আহমেদ পীরের মাজার রয়েছে। এই গ্রামে জন্মগ্রহন করেন সিলেটের ৪ জন বীর প্রতিকের একজন বীর প্রতীক সিরাজুল ইসলাম ও প্রবাসে মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক আফরোজ মিয়া ( হাতেম তাঈ ) সহ অনেক হুনি জন । এখানে রয়েছে একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুইটি জামে মসজিদ। সুত্রে আরো জানাযায় জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি আড়াই কিঃ মিঃ মধ্যে এক কিঃ মিঃ পাঁকা করনের জন্য বিগত ২২-০৮-২০১৫ ইং এবং ২০-১০-২০১৫ ইং তারিখে সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া পাঁকা করনের জন্য পৃথক ভাবে দুটি আধা সরকারী পত্র স্হানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরে জমা দেন। উক্ত ডিওর পরিপেক্ষিতে স্হানীয় উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় হতে রাস্তাটি ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্কলন দাখিল করেন। স্মারক নং এলজিআইডি/ উঃপ্রকৌঃ/বিশ্বঃ/২০১৫/৪৪৮ ও সুত্র এলজিআইডি/পিডি (আই আর আইডিপি-২) এস ০১/২০১৫/০৩ (৬৪) তারিখ ০১/০৯/২০১৫ ইং উক্ত প্রক্কলন ও ডিও লেটারের মাধ্যমে রাস্তাটি টেন্ডারের জন্য অনুমোদন হয়। অনুমোদন হয়েও আজ পর্যন্ত কাজ শুরু না হওয়ায় এলাকাবাসী মর্মাহত। এই ব্যাপারে সিলেট জেলা প্রশাসক বরাবরে সম্প্রতি একটি দরখাস্ত দাখিল করা হয়েছে। এই রাস্তাটি সম্পুর্ন পাঁকা করনের জন্য এলাকাবাসী সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান। বীর প্রতীক সিরাজুল ইসলাম বলেন রাস্তাটা পাঁকা করন দেখার খুব ইচ্ছা ছিল।এলাকাটি উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। জনস্বার্থে রাস্তাটি পাঁকা হওয়া সময়ের দাবী। জননেত্রী শেখ হাসিনার স্লোগান গ্রাম হবে শহর এই কথাটি দ্রুত বাস্বায়নের জন্য উর্ধত্বন কর্তৃপক্ষে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আগ্নপাড়া গ্রামের মুরব্বিদের মধ্যে একজন মোহাম্মদ সারসুল ইসলাম বলেন বিগত দিনে রাস্তা পাঁকা করনের টেন্ডার হলেও তা বাস্তবায়ন হয় নাই। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, গ্রামের ২ মাজারের শত শত দর্শনার্থী কাঁদার মাঝে অনেক কষ্ট করে চলাচল করতে হয়, আগ্নপাড়া ও মজলিশপুর দুই গ্রামের মানুষের কথা চিন্তা করে রাস্তাটি দ্রুত পাঁকা হওয়া জরুরী। লেখকঃ সায়হাম শিকদার, শিক্ষার্থী, সমাজকর্মী

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বাউল সাধক চান মিয়া এবং আমার কিছু উপলব্ধি

"রজনী হইসনা অবসান  আজ নিশিতে আসতে পারেবন্ধু কালাচাঁন।। কত নিশি পোহাইলোমনের আশা মনে রইলো রে কেন বন্ধু আসিলোনা জুড়ায়না পরান। আজ নিশিতে আসতে পারে বন্ধু কালাচাঁন।। বাসর সাজাই আসার আশেআসবে বন্ধু নিশি শেষে দারূন পিরিতের বিষে ধরিল উজান। আজ নিশিতে আসতে পারে বন্ধু কালাচাঁন।। মেঘে ঢাকা আঁধার রাতে কেমনে থাকি একা ঘরে সাধক চাঁনমিয়া কয় কানতে কানতে হইলাম পেরেশান আজ নিশিতে আসতে বন্দু কালাচাঁন।"    গভীর নিশিতে ধ্যান মগ্ন হয়ে কালাচাঁনের অপেক্ষা করছেন সাধক।  সাধক চান মিয়ার শিষ্য বাউল সিরাজউদ্দিনের মতে এটি একটি রাই বিচ্ছেদ। কৃষ্ণের অপেক্ষায় রাধা নিশি বা রাতকে অনুরোধ করছেন 'রাত' যেন না পোহায়  কারণ তার কালা চান যে কোন সময় আসতে পারে। শব্দগুচ্ছ গুলো থেকে সহজেই উপলব্ধি হয় সাধক নিজ দেহকে রাধা আর আত্মাকে কৃষ্ণের সাথে তুলনা করেছেন। দেহ আত্মার মিলন ঘটানোই ছিল সাধকের সাধনা।        বাউল সাধক চান মিয়া উপরোক্ত গানটি রচনা করেছেন। নেত্রকোনা জেলার খাটপুরা গ্রামে ১৩২৫ বঙ্গাব্দে সাধক চান মিয়ার জন্ম। পুরো নাম চান্দেজ্জামান আকন্দ হলেও বা...

বাউল, বাউলতত্ব এবং কিছু কথা

একজন ভদ্র বন্ধু বরের সাথে বাউল সম্প্রদায় নিয়ে বেশ তর্ক হলো রাতে। তর্কের সূত্রপাত ছিল বাউলরা ভাববাদী না বস্তুবাদী। ভাবলাম "বাউলতত্ত্ব"র আলোকে বাউলরা ভাববাদী নাকি বস্তুবাদী তা নিয়ে যৌক্তিক আলোচনা আবশ্যম্ভাবী। কয়েকটি ধারাবাহিক পর্ব লিখে নিজের মনোভাব বোঝানোর চেষ্টা করব।  শুরুতেই শক্তিনাথ ঝাঁ এর বস্তুবাদী বাউল বই থেকে কিছু কথা লিখতে চাই; বাস্তব জগত ও জীবনকে এরা কোন আনুমানিক যুক্তি বা আলৌকিক যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করতে নারাজ। জৈব রাসায়নিক ব্যাখায় এরা নারীর রজঃ এবং পুরুষের বিজে জীবন ও জগত সৃষ্টিকে ব্যাখা করে এবং চার ভূতকে প্রাকৃতিক সৃষ্টি মনে করে। এভাবে মানুষে, প্রকৃতিতে তৈরি করে প্রাণ, প্রাণী। অনুমান ভিত্তিক স্বর্গ, নরক, পরলোক, পুনর্জন্মাদি প্রত্যক্ষ প্রমাণাভাবে বাউল আগ্রাহ্য করে। মানুষ ব্যাতিরিক্ত ঈশ্বরও এরা মানে না। সৃষ্টির নিয়মকে জেনে যিনি নিজেকে পরিচালনা করতে শিখেছেন- তিনিই সাঁই। সুস্থ নিরোগ দীর্ঘজীবন এবং আনন্দকে অনুভব করার বাউল সাধনা এক আনন্দমার্গ।।  বাউলরা ভাববাদী না বস্তুবাদী এর অনেক সূক্ষ বিশ্লেষণ শক্তিনাথের বস্তুবাদী বাউল বইটির মধ্যে আলকপাত করা হয়েছে। সাধারণ সমাজে এ ধা...

আমি কুল হারা কলঙ্কিনী

হাওরের বুক বেয়ে চলছে একটি নৌকা। সেই নৌকায় একজন গুরু তার শিষ্যদের নিয়ে গান করছেন, বলছেন গানের ইতিবৃত্ত। আমি বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের কথা বলছি। ভাটির পুরুষ প্রামাণ্য চিত্রে বাউল শাহ আব্দুল করিম বলেছিলেন এভাবেই- 'আমার কাছে কেউ আইয়ো না, আমার পরামর্শ কেউ লিও না, আমার নীতি বিধান তোমরা মানিও না, আমি আমার কলঙ্ক ডালা মাতাত লইলাইছি, তোমরা কলংকি অইয়ো না, এইটা কইছি আরকি। ঔত মানুষে ভালোবাসেনা, কয় গান গায় এবেটায় মরলে জানাজা মরতাম নায়, ইতা নায় হিতা নায় মুল্লা গুষ্টিয়ে কয় আরকি '। শাহ আব্দুল করিম তাঁর লিখা এবং সুর করা ' আমি কুল হারা কলঙ্কিনী' গানটির ব্যাখ্যা করছিলেন এভাবেই।  বাউল করিমের শিষ্য আব্দুল ওয়াহেদ থেকে জানা যায়, একবার ঈদ জামাত শেষ হবার পর শাহ আব্দুল করিমকে গ্রামের মোল্লারা আক্রমণ করে বসলো। বলা হলো তাকে গান ছেড়ে দিতে হবে। গান বাজনা না ছাড়লে তাকে এক ঘরে করে দেয়া হবে। পরবর্তীতে করিম গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র অর্থাৎ কালনী নদীর তীরে চলে গিয়েছিলেন যেখানে করিমের বাড়ি এবং সমাধি অবস্থিত। ৭১ টিভিতে বাউল শাহ আব্দুল করিমের ছেলে বাউল শাহ নূর জালাল এমনটাই জানিয়েছিলেন।  আমি কুল হারা কলঙ্কিনী...