সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

প্রসঙ্গঃ উদীয়মান দেশের নারী কর্মজীবী (দ্বিতীয় পর্ব)

 আমার একজন সম্মানিত সহকর্মী আমার পাশে বসে পূর্ববর্তী পর্ব পড়ার এক পর্যায়ে বললেন, চোখে জল এসে গেল- এতটাই চরম বাস্তবতা!!

বাস্তবিকই বাড়ি ফিরে কাপড় না ছেড়ে গৃহকর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ার উদাহরণ প্রচুর।  বাড়ি ফিরে ঘণ্টাখানেক বিশ্রাম প্রয়োজন। সন্তান ছোট হলে বদলানোর কাপড় এগিয়ে দিক, বড় হলে এর পাশাপাশি ঠান্ডা বা গরম সতেজ পানীয় মাকে দিক। সন্তানকে বুঝতে দিন আপনি ক্লান্ত। 

চাকরির সুবাদে বাইরে থাকার কারণে এক মূহুর্ত নিজের শিথিলতার জন্য দিতে কর্মজীবী নারীর চরম অনীহা। আমার কর্মজীবী মা সম্বন্ধে একটা কথা প্রচলিত ছিল,  তিনি কেউ অসুস্থ হলে দেখতে যান নয়তো তাকে কর্মক্ষেত্রের বাইরে বেড়াতে দেখা যায় না। 

মানসিক প্রশান্তির বড় সহায়ক প্রকৃতির কাছাকাছি বা নিজের পছন্দসই কিছু সময় ব্যয় করা। 

ফিজিওথেরাপি সেন্টার বা হাড়ের ডাক্তারের কাছে হাড় ক্ষয়  আর বাতের ব্যাথার প্রায় সমস্ত রোগীই নারী। মনে রাখা দরকার,  নিয়মিত ব্যায়াম  ও সময়মতো খাদ্যাভ্যাস সুস্থ জীবনযাপনের পূর্বশর্ত।


কর্মজীবী নারীর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ধাক্কা আসে সন্তান লালন-পালনে। এদেশে ডে-কেয়ার সেন্টার নেই বললেই চলে।সরকারি ও বেসরকারি এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব উদ্যোগে শিশু সন্তান লালন-পালনের ব্যবস্থা নেয়া যায়। এতে দু'টো লাভ। প্রথমতঃ কর্মজীবী মাকে সন্তান লালনের ভাবনায় অস্থির হতে হবে না, দ্বিতীয়তঃ ডে-কেয়ার সেন্টারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। শর্ত হলো, অবশ্যই এদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নিজের সন্তান রাখার সুযোগ থাকতে হবে। 

উন্নত বিশ্বের নারীদের জীবনাচরণের দিকে তাকালে সামাজিক দৈন্যের প্রকটতা চোখে পড়ে না।সেখানে সবাই সমানভাবে ছুটে ; স্ত্রী ঘর পরিস্কার করলে অন্য সদস্য রান্না সেরে নিচ্ছেন। একজন প্রবাসী  এদেশের কথা লিখেছেন, " মোটামুটি ভালো একটা চাকরি করলে যে কেহই কাজের লোক রাখতে পারে "।এবার আসি এই অনির্দিষ্ট বেতনভোগী গৃহকর্মী প্রসঙ্গে - বেশিরভাগ গৃহকর্মী নারী এবং স্বল্প পরিসরে হলেও তিনিও আমার আপনার মতো একই ধরনের অসুবিধার মুখোমুখি হোন, যা অনস্বীকার্য। 

কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তার বিষয়টা কোনভাবেই অবহেলা করার উপায় নেই।


দুর্গম গিরি, কান্তার মরু, দুস্তর পারাবারল লঙ্ঘিতে হবে--

কারণ, বীর ভোগ্যা বসুন্ধরা।  বাঁচুন বীরের মতো ; আত্মসম্মানের জায়গাটা করতে হবে পোক্ত নয়তো অঞ্জন দত্তের  'তোমার আমার লাল- নীল সংসার' মনে হতে পারে কেবল ' সাদা-কালো '। তাই  আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আত্মসম্মানে বলীয়ান হওয়াই হোক নারীর বেগুনি  প্রতিজ্ঞা।



লেখকঃ হাসিনা ফেরদৌস, সহকারী অধ্যাপক ( গণিত), ২৪ তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা), সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বাউল সাধক চান মিয়া এবং আমার কিছু উপলব্ধি

"রজনী হইসনা অবসান  আজ নিশিতে আসতে পারেবন্ধু কালাচাঁন।। কত নিশি পোহাইলোমনের আশা মনে রইলো রে কেন বন্ধু আসিলোনা জুড়ায়না পরান। আজ নিশিতে আসতে পারে বন্ধু কালাচাঁন।। বাসর সাজাই আসার আশেআসবে বন্ধু নিশি শেষে দারূন পিরিতের বিষে ধরিল উজান। আজ নিশিতে আসতে পারে বন্ধু কালাচাঁন।। মেঘে ঢাকা আঁধার রাতে কেমনে থাকি একা ঘরে সাধক চাঁনমিয়া কয় কানতে কানতে হইলাম পেরেশান আজ নিশিতে আসতে বন্দু কালাচাঁন।"    গভীর নিশিতে ধ্যান মগ্ন হয়ে কালাচাঁনের অপেক্ষা করছেন সাধক।  সাধক চান মিয়ার শিষ্য বাউল সিরাজউদ্দিনের মতে এটি একটি রাই বিচ্ছেদ। কৃষ্ণের অপেক্ষায় রাধা নিশি বা রাতকে অনুরোধ করছেন 'রাত' যেন না পোহায়  কারণ তার কালা চান যে কোন সময় আসতে পারে। শব্দগুচ্ছ গুলো থেকে সহজেই উপলব্ধি হয় সাধক নিজ দেহকে রাধা আর আত্মাকে কৃষ্ণের সাথে তুলনা করেছেন। দেহ আত্মার মিলন ঘটানোই ছিল সাধকের সাধনা।        বাউল সাধক চান মিয়া উপরোক্ত গানটি রচনা করেছেন। নেত্রকোনা জেলার খাটপুরা গ্রামে ১৩২৫ বঙ্গাব্দে সাধক চান মিয়ার জন্ম। পুরো নাম চান্দেজ্জামান আকন্দ হলেও বা...

বাউল, বাউলতত্ব এবং কিছু কথা

একজন ভদ্র বন্ধু বরের সাথে বাউল সম্প্রদায় নিয়ে বেশ তর্ক হলো রাতে। তর্কের সূত্রপাত ছিল বাউলরা ভাববাদী না বস্তুবাদী। ভাবলাম "বাউলতত্ত্ব"র আলোকে বাউলরা ভাববাদী নাকি বস্তুবাদী তা নিয়ে যৌক্তিক আলোচনা আবশ্যম্ভাবী। কয়েকটি ধারাবাহিক পর্ব লিখে নিজের মনোভাব বোঝানোর চেষ্টা করব।  শুরুতেই শক্তিনাথ ঝাঁ এর বস্তুবাদী বাউল বই থেকে কিছু কথা লিখতে চাই; বাস্তব জগত ও জীবনকে এরা কোন আনুমানিক যুক্তি বা আলৌকিক যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করতে নারাজ। জৈব রাসায়নিক ব্যাখায় এরা নারীর রজঃ এবং পুরুষের বিজে জীবন ও জগত সৃষ্টিকে ব্যাখা করে এবং চার ভূতকে প্রাকৃতিক সৃষ্টি মনে করে। এভাবে মানুষে, প্রকৃতিতে তৈরি করে প্রাণ, প্রাণী। অনুমান ভিত্তিক স্বর্গ, নরক, পরলোক, পুনর্জন্মাদি প্রত্যক্ষ প্রমাণাভাবে বাউল আগ্রাহ্য করে। মানুষ ব্যাতিরিক্ত ঈশ্বরও এরা মানে না। সৃষ্টির নিয়মকে জেনে যিনি নিজেকে পরিচালনা করতে শিখেছেন- তিনিই সাঁই। সুস্থ নিরোগ দীর্ঘজীবন এবং আনন্দকে অনুভব করার বাউল সাধনা এক আনন্দমার্গ।।  বাউলরা ভাববাদী না বস্তুবাদী এর অনেক সূক্ষ বিশ্লেষণ শক্তিনাথের বস্তুবাদী বাউল বইটির মধ্যে আলকপাত করা হয়েছে। সাধারণ সমাজে এ ধা...

আমি কুল হারা কলঙ্কিনী

হাওরের বুক বেয়ে চলছে একটি নৌকা। সেই নৌকায় একজন গুরু তার শিষ্যদের নিয়ে গান করছেন, বলছেন গানের ইতিবৃত্ত। আমি বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের কথা বলছি। ভাটির পুরুষ প্রামাণ্য চিত্রে বাউল শাহ আব্দুল করিম বলেছিলেন এভাবেই- 'আমার কাছে কেউ আইয়ো না, আমার পরামর্শ কেউ লিও না, আমার নীতি বিধান তোমরা মানিও না, আমি আমার কলঙ্ক ডালা মাতাত লইলাইছি, তোমরা কলংকি অইয়ো না, এইটা কইছি আরকি। ঔত মানুষে ভালোবাসেনা, কয় গান গায় এবেটায় মরলে জানাজা মরতাম নায়, ইতা নায় হিতা নায় মুল্লা গুষ্টিয়ে কয় আরকি '। শাহ আব্দুল করিম তাঁর লিখা এবং সুর করা ' আমি কুল হারা কলঙ্কিনী' গানটির ব্যাখ্যা করছিলেন এভাবেই।  বাউল করিমের শিষ্য আব্দুল ওয়াহেদ থেকে জানা যায়, একবার ঈদ জামাত শেষ হবার পর শাহ আব্দুল করিমকে গ্রামের মোল্লারা আক্রমণ করে বসলো। বলা হলো তাকে গান ছেড়ে দিতে হবে। গান বাজনা না ছাড়লে তাকে এক ঘরে করে দেয়া হবে। পরবর্তীতে করিম গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র অর্থাৎ কালনী নদীর তীরে চলে গিয়েছিলেন যেখানে করিমের বাড়ি এবং সমাধি অবস্থিত। ৭১ টিভিতে বাউল শাহ আব্দুল করিমের ছেলে বাউল শাহ নূর জালাল এমনটাই জানিয়েছিলেন।  আমি কুল হারা কলঙ্কিনী...