সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

চুরি আবার বিদ্যা!

কথায় আছে ' চুরি বিদ্যা ভালো বিদ্যা যদি না পড় ধরা"। এই প্রবাদ প্রবচনটা হয়ত শুধু পৃথিবীর একমাত্র ভাষা বাংলা ভাষাতেই আছে। যেখানে চুরিকে বিদ্যা বলা হচ্ছে। আসলে প্রবাদ প্রবচন নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছিনা। বলতে চাচ্ছি মহামারি বা দুর্যোগের সময় আমাদের চুরি করার অভ্যাস, জনপ্রতিনিধিদের নগ্ন দৃষ্টি ভঙ্গি এবং আকালের কথা।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গোটা পৃথিবী জর্জরিত৷ বাংলাদেশও তার বাহিরে নয়। আমাদের দেশে করোনা সংক্রামন যেমন ভয়াবহ রূপ ধারণ করার সম্ভাবনা রয়েছ তার থেকে বেশি ভয়াবহতা ধারণ করছে আমাদের জনপ্রতিনিধিদের চুরির মানসিকতা। ইতোমধ্যে সরকারি হিসেবে মারা গেছেন প্রায় ৪০ জন। আক্রান্ত প্রায় আটশ মানুষ। সাধারণ ছুটির নামে দেশজুড়ে কার্যত লকডাউন চলছে। এই অবস্থায় দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে ত্রাণ সহায়তা ও দশ টাকা কেজিতে চাল কেনার সুযোগ দেয়া হয়েছে। আর এই মহামারীর সুযোগেই এক শ্রেণির অসাধু জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী তাতে হাত দিয়েছেন। কেউ চুরি করে অন্যত্র বিক্রি করছেন, কেউ আত্মসাৎ করতে গিয়ে ধরা খাচ্ছেন।
ইতোমধ্যে ত্রাণ আত্মসাত ও দশ টাকা দরের চাল চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন অনেক জনপ্রতিনিধি, চালের ডিলার ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। এদের বেশিরভাগই সরকারি দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতা। এক উপজেলায় একাধিকবার চাল চুরি ও আত্মসাতের ঘটনাও ঘটেছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যারা এই সময়ে সহায়তা নিয়ে দুর্নীতি করবে তাদের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। তাতেও থামছে না এই অপকর্ম।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে সারাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দরিদ্র ও হতদরিদ্র মানুষের জন্য সরকারের বরাদ্দের ২ হাজার ১৭৪ বস্তা চুরি হওয়া চাল উদ্ধার করেছে আইনশৃ্ঙ্খলা বাহিনী। তবে এখনও হদিস মেলেনি ৫৫০ বস্তা চালের। সবচেয়ে বেশি ৬৯৫ বস্তা চুরি হওয়া চাল উদ্ধার হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে এবং সবচেয়ে কম ৩৮ বস্তা উদ্ধার হয়েছে সিলেট বিভাগ থেকে। এসব ঘটনায় সারা দেশ থেকে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাসহ ২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এই তথ্যগুলো আমাদের জন্য লজ্জাকর। অথচ এই চোরদের আমরাই ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি করেছি। বেশ আগে একজন জনপ্রতিনিধির সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলাম কোন একটা বিষয়ের উপর। কথার প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, ১৭ লাখ খরচ করে মেম্বার হয়েছি, টাকা ত তুলতে হবে তাই না। সেই কথাই এখন ভাবছি, একজন জনপ্রতিনিধির কাছে প্রথমেই আমরা বিক্রির পণ্য। টাকার বিনিময়ে ভোট দিয়েছি, এখন কিভাবে সোচ্চার হই।  সেই রাইট কি আমাদের আছে!

অপরদিকে, সরকারের দায় ভারের কথা যদি বলি তবে ত এমপি সাংসদরা নগ্ন। সবাই নয় তবে বেশির ভাগ। একজন চাল চোরের পক্ষে কিভাবে আদালতে সাফাই গেয়ে বেড়ান একজন এম পি। তিনি আবার আইন প্রণেতা। একজন সর্বোচ্চ হাউজের লোক যদি এমন হোন তবে বাদ বাকি। মেম্বার চেয়ারম্যান চাল চুরি অস্বাভাবিক নয়।

যা বলতে চাচ্ছিলাম, এসব চোরদের ছবির উপর কুটেশন করে রাখেন। আগামী স্থানীয় নির্বাচনে জবাব দেবেন। সামাজিক ভাবে বয়কট করা হোক এদের।

পরিশেষে আরেকটি প্রবাদ মনে পড়ে গেলো, সাত কোটি কম্বল দিয়েছিলো ভারত শেখ মুজিবর উনার নিজের কম্বল টাও পাননি। এই হচ্ছে ইতিহাস এবং উপরে লেখা গুলো বর্তমান।

লেখক- চৌধুরী মারূফ, সাংবাদিক

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বাউল সাধক চান মিয়া এবং আমার কিছু উপলব্ধি

"রজনী হইসনা অবসান  আজ নিশিতে আসতে পারেবন্ধু কালাচাঁন।। কত নিশি পোহাইলোমনের আশা মনে রইলো রে কেন বন্ধু আসিলোনা জুড়ায়না পরান। আজ নিশিতে আসতে পারে বন্ধু কালাচাঁন।। বাসর সাজাই আসার আশেআসবে বন্ধু নিশি শেষে দারূন পিরিতের বিষে ধরিল উজান। আজ নিশিতে আসতে পারে বন্ধু কালাচাঁন।। মেঘে ঢাকা আঁধার রাতে কেমনে থাকি একা ঘরে সাধক চাঁনমিয়া কয় কানতে কানতে হইলাম পেরেশান আজ নিশিতে আসতে বন্দু কালাচাঁন।"    গভীর নিশিতে ধ্যান মগ্ন হয়ে কালাচাঁনের অপেক্ষা করছেন সাধক।  সাধক চান মিয়ার শিষ্য বাউল সিরাজউদ্দিনের মতে এটি একটি রাই বিচ্ছেদ। কৃষ্ণের অপেক্ষায় রাধা নিশি বা রাতকে অনুরোধ করছেন 'রাত' যেন না পোহায়  কারণ তার কালা চান যে কোন সময় আসতে পারে। শব্দগুচ্ছ গুলো থেকে সহজেই উপলব্ধি হয় সাধক নিজ দেহকে রাধা আর আত্মাকে কৃষ্ণের সাথে তুলনা করেছেন। দেহ আত্মার মিলন ঘটানোই ছিল সাধকের সাধনা।        বাউল সাধক চান মিয়া উপরোক্ত গানটি রচনা করেছেন। নেত্রকোনা জেলার খাটপুরা গ্রামে ১৩২৫ বঙ্গাব্দে সাধক চান মিয়ার জন্ম। পুরো নাম চান্দেজ্জামান আকন্দ হলেও বা...

বাউল, বাউলতত্ব এবং কিছু কথা

একজন ভদ্র বন্ধু বরের সাথে বাউল সম্প্রদায় নিয়ে বেশ তর্ক হলো রাতে। তর্কের সূত্রপাত ছিল বাউলরা ভাববাদী না বস্তুবাদী। ভাবলাম "বাউলতত্ত্ব"র আলোকে বাউলরা ভাববাদী নাকি বস্তুবাদী তা নিয়ে যৌক্তিক আলোচনা আবশ্যম্ভাবী। কয়েকটি ধারাবাহিক পর্ব লিখে নিজের মনোভাব বোঝানোর চেষ্টা করব।  শুরুতেই শক্তিনাথ ঝাঁ এর বস্তুবাদী বাউল বই থেকে কিছু কথা লিখতে চাই; বাস্তব জগত ও জীবনকে এরা কোন আনুমানিক যুক্তি বা আলৌকিক যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করতে নারাজ। জৈব রাসায়নিক ব্যাখায় এরা নারীর রজঃ এবং পুরুষের বিজে জীবন ও জগত সৃষ্টিকে ব্যাখা করে এবং চার ভূতকে প্রাকৃতিক সৃষ্টি মনে করে। এভাবে মানুষে, প্রকৃতিতে তৈরি করে প্রাণ, প্রাণী। অনুমান ভিত্তিক স্বর্গ, নরক, পরলোক, পুনর্জন্মাদি প্রত্যক্ষ প্রমাণাভাবে বাউল আগ্রাহ্য করে। মানুষ ব্যাতিরিক্ত ঈশ্বরও এরা মানে না। সৃষ্টির নিয়মকে জেনে যিনি নিজেকে পরিচালনা করতে শিখেছেন- তিনিই সাঁই। সুস্থ নিরোগ দীর্ঘজীবন এবং আনন্দকে অনুভব করার বাউল সাধনা এক আনন্দমার্গ।।  বাউলরা ভাববাদী না বস্তুবাদী এর অনেক সূক্ষ বিশ্লেষণ শক্তিনাথের বস্তুবাদী বাউল বইটির মধ্যে আলকপাত করা হয়েছে। সাধারণ সমাজে এ ধা...

আমি কুল হারা কলঙ্কিনী

হাওরের বুক বেয়ে চলছে একটি নৌকা। সেই নৌকায় একজন গুরু তার শিষ্যদের নিয়ে গান করছেন, বলছেন গানের ইতিবৃত্ত। আমি বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের কথা বলছি। ভাটির পুরুষ প্রামাণ্য চিত্রে বাউল শাহ আব্দুল করিম বলেছিলেন এভাবেই- 'আমার কাছে কেউ আইয়ো না, আমার পরামর্শ কেউ লিও না, আমার নীতি বিধান তোমরা মানিও না, আমি আমার কলঙ্ক ডালা মাতাত লইলাইছি, তোমরা কলংকি অইয়ো না, এইটা কইছি আরকি। ঔত মানুষে ভালোবাসেনা, কয় গান গায় এবেটায় মরলে জানাজা মরতাম নায়, ইতা নায় হিতা নায় মুল্লা গুষ্টিয়ে কয় আরকি '। শাহ আব্দুল করিম তাঁর লিখা এবং সুর করা ' আমি কুল হারা কলঙ্কিনী' গানটির ব্যাখ্যা করছিলেন এভাবেই।  বাউল করিমের শিষ্য আব্দুল ওয়াহেদ থেকে জানা যায়, একবার ঈদ জামাত শেষ হবার পর শাহ আব্দুল করিমকে গ্রামের মোল্লারা আক্রমণ করে বসলো। বলা হলো তাকে গান ছেড়ে দিতে হবে। গান বাজনা না ছাড়লে তাকে এক ঘরে করে দেয়া হবে। পরবর্তীতে করিম গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র অর্থাৎ কালনী নদীর তীরে চলে গিয়েছিলেন যেখানে করিমের বাড়ি এবং সমাধি অবস্থিত। ৭১ টিভিতে বাউল শাহ আব্দুল করিমের ছেলে বাউল শাহ নূর জালাল এমনটাই জানিয়েছিলেন।  আমি কুল হারা কলঙ্কিনী...