সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ফেস মাস্ক নিয়ে জরুরি কথা

একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে সঠিক সময়ে, সঠিক তথ্য দিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা আমাদের দায়িত্ব। সেটি করতে যেয়ে আমরা যেন ভুল তথ্য দিয়ে তাদের বিভ্রান্ত না করি। আমরা হুজুগে বাঙালি অনেক জিনিসই কিনে ফেলি কিন্তু কোন জিনিসই নিয়ম মেনে মাপমত ব্যবহার করি না। ফেস মাস্কের বেলাতেও তাই হচ্ছে। অথচ ফেস মাস্ক সঠিক মাপের না হলে এবং এটি সঠিক নিয়মে ব্যবহার না করলে আমাদের উপকারের চেয়ে অপকার বেশি করতে পারে।

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে গত কয়েক দিনে ফেস মাস্ক ব্যবহার করার পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। গত কয়েকদিনের অভিজ্ঞতায় সবচে বেশি মানুষ দেখলাম কাপড়ের তৈরি মাস্ক (নেকাবও এই গোত্রে পড়ে) ব্যবহার করছেন। অথচ এ ধরণের মাস্ক ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া এবং বাতাসে সাথে মিশে থাকা ক্ষতিকর গ্যাসীয়, তরল ও কঠিন পদার্থ থেকে কোনধরনের সুরক্ষা দেয়া না। এমনকি এগুলো ব্যবহারকারীর শরীর থেকে নির্গত হওয়া কফ, লালা, ঘাম, থুথুর স্পর্শ থেকে অন্যদের মুক্ত রাখতে পারে না। উল্টো দীর্ঘক্ষণ কিংবা একই মাস্ক বারবার ব্যবহারের ফলে আমরা নিজেদের শরীরে ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া চাষাবাদ করার পরিবেশ তৈরি করতে পারি।

শ্বাসকষ্টের রোগী এ ধরণের মাস্ক ব্যবহার করলে শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে যেতে পারে, এমনকি হার্ট ফেইলিউর পর্যন্ত হতে পারে। তাছাড়া এ ধরনের মাস্ক পড়ে আমরা নিজেকে সুরক্ষিত মনে করে নিশ্চিন্তে দূষিত পরিবেশে চলাফেরা করে আরও বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারি।

কাপড়ের মাস্কের পর সবচে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে সার্জিক্যাল মাস্ক। এই ধরনের মাস্কের মূল কাজ, ব্যবহারকারীর নাক মুখ থেকে নির্গত হওয়া কফ, লালা, থুথু ইত্যাদি থেকে অন্যদের রক্ষা করা এবং বাইরে রক্তের ছিটা ফোটা থেকে ব্যবহারকারীকে স্পর্শমুক্ত রাখা। সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে এটি ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া থেকে কিছু মাত্রায় হলেও সুরক্ষা দিয়ে থাকে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়াসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর কঠিন, জলীয় এবং বায়বীয় পদার্থ থেকে সুরক্ষা দিতে ফেসমাস্ক হিসেবে একমাত্র N95 গ্রেডের মাস্ক বা রেসপিরেটর ব্যবহার করা উচিত। এবং সেগুলো অবশ্যই CDC এবং NIOSH approved সুনির্দিষ্ট কয়েকটি কোম্পানির হতে হবে এবং অবশ্যই সব রকম নিয়ম মেনে ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে মাস্ক ব্যবহারের আগে এবং পরে সঠিক নিয়মে হাত ধুতে হবে। এই কাজটি মাস্ক ব্যবহারের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলেও আমরা কেউ এটি নিয়ে কোন কথা বলছি না। হাত ময়লা থাকলে মাস্ক পরেও লাভ নেই, ভাইরাস চোখের মাধ্যমে বা সরাসরি ত্বকে স্পর্শ করার মাধ্যমেও আমাদের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। 

লিখেছেন- জাহিদুর রহমান, চিকিৎসক 
  

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বাউল সাধক চান মিয়া এবং আমার কিছু উপলব্ধি

"রজনী হইসনা অবসান  আজ নিশিতে আসতে পারেবন্ধু কালাচাঁন।। কত নিশি পোহাইলোমনের আশা মনে রইলো রে কেন বন্ধু আসিলোনা জুড়ায়না পরান। আজ নিশিতে আসতে পারে বন্ধু কালাচাঁন।। বাসর সাজাই আসার আশেআসবে বন্ধু নিশি শেষে দারূন পিরিতের বিষে ধরিল উজান। আজ নিশিতে আসতে পারে বন্ধু কালাচাঁন।। মেঘে ঢাকা আঁধার রাতে কেমনে থাকি একা ঘরে সাধক চাঁনমিয়া কয় কানতে কানতে হইলাম পেরেশান আজ নিশিতে আসতে বন্দু কালাচাঁন।"    গভীর নিশিতে ধ্যান মগ্ন হয়ে কালাচাঁনের অপেক্ষা করছেন সাধক।  সাধক চান মিয়ার শিষ্য বাউল সিরাজউদ্দিনের মতে এটি একটি রাই বিচ্ছেদ। কৃষ্ণের অপেক্ষায় রাধা নিশি বা রাতকে অনুরোধ করছেন 'রাত' যেন না পোহায়  কারণ তার কালা চান যে কোন সময় আসতে পারে। শব্দগুচ্ছ গুলো থেকে সহজেই উপলব্ধি হয় সাধক নিজ দেহকে রাধা আর আত্মাকে কৃষ্ণের সাথে তুলনা করেছেন। দেহ আত্মার মিলন ঘটানোই ছিল সাধকের সাধনা।        বাউল সাধক চান মিয়া উপরোক্ত গানটি রচনা করেছেন। নেত্রকোনা জেলার খাটপুরা গ্রামে ১৩২৫ বঙ্গাব্দে সাধক চান মিয়ার জন্ম। পুরো নাম চান্দেজ্জামান আকন্দ হলেও বা...

বাউল, বাউলতত্ব এবং কিছু কথা

একজন ভদ্র বন্ধু বরের সাথে বাউল সম্প্রদায় নিয়ে বেশ তর্ক হলো রাতে। তর্কের সূত্রপাত ছিল বাউলরা ভাববাদী না বস্তুবাদী। ভাবলাম "বাউলতত্ত্ব"র আলোকে বাউলরা ভাববাদী নাকি বস্তুবাদী তা নিয়ে যৌক্তিক আলোচনা আবশ্যম্ভাবী। কয়েকটি ধারাবাহিক পর্ব লিখে নিজের মনোভাব বোঝানোর চেষ্টা করব।  শুরুতেই শক্তিনাথ ঝাঁ এর বস্তুবাদী বাউল বই থেকে কিছু কথা লিখতে চাই; বাস্তব জগত ও জীবনকে এরা কোন আনুমানিক যুক্তি বা আলৌকিক যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করতে নারাজ। জৈব রাসায়নিক ব্যাখায় এরা নারীর রজঃ এবং পুরুষের বিজে জীবন ও জগত সৃষ্টিকে ব্যাখা করে এবং চার ভূতকে প্রাকৃতিক সৃষ্টি মনে করে। এভাবে মানুষে, প্রকৃতিতে তৈরি করে প্রাণ, প্রাণী। অনুমান ভিত্তিক স্বর্গ, নরক, পরলোক, পুনর্জন্মাদি প্রত্যক্ষ প্রমাণাভাবে বাউল আগ্রাহ্য করে। মানুষ ব্যাতিরিক্ত ঈশ্বরও এরা মানে না। সৃষ্টির নিয়মকে জেনে যিনি নিজেকে পরিচালনা করতে শিখেছেন- তিনিই সাঁই। সুস্থ নিরোগ দীর্ঘজীবন এবং আনন্দকে অনুভব করার বাউল সাধনা এক আনন্দমার্গ।।  বাউলরা ভাববাদী না বস্তুবাদী এর অনেক সূক্ষ বিশ্লেষণ শক্তিনাথের বস্তুবাদী বাউল বইটির মধ্যে আলকপাত করা হয়েছে। সাধারণ সমাজে এ ধা...

আমি কুল হারা কলঙ্কিনী

হাওরের বুক বেয়ে চলছে একটি নৌকা। সেই নৌকায় একজন গুরু তার শিষ্যদের নিয়ে গান করছেন, বলছেন গানের ইতিবৃত্ত। আমি বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের কথা বলছি। ভাটির পুরুষ প্রামাণ্য চিত্রে বাউল শাহ আব্দুল করিম বলেছিলেন এভাবেই- 'আমার কাছে কেউ আইয়ো না, আমার পরামর্শ কেউ লিও না, আমার নীতি বিধান তোমরা মানিও না, আমি আমার কলঙ্ক ডালা মাতাত লইলাইছি, তোমরা কলংকি অইয়ো না, এইটা কইছি আরকি। ঔত মানুষে ভালোবাসেনা, কয় গান গায় এবেটায় মরলে জানাজা মরতাম নায়, ইতা নায় হিতা নায় মুল্লা গুষ্টিয়ে কয় আরকি '। শাহ আব্দুল করিম তাঁর লিখা এবং সুর করা ' আমি কুল হারা কলঙ্কিনী' গানটির ব্যাখ্যা করছিলেন এভাবেই।  বাউল করিমের শিষ্য আব্দুল ওয়াহেদ থেকে জানা যায়, একবার ঈদ জামাত শেষ হবার পর শাহ আব্দুল করিমকে গ্রামের মোল্লারা আক্রমণ করে বসলো। বলা হলো তাকে গান ছেড়ে দিতে হবে। গান বাজনা না ছাড়লে তাকে এক ঘরে করে দেয়া হবে। পরবর্তীতে করিম গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র অর্থাৎ কালনী নদীর তীরে চলে গিয়েছিলেন যেখানে করিমের বাড়ি এবং সমাধি অবস্থিত। ৭১ টিভিতে বাউল শাহ আব্দুল করিমের ছেলে বাউল শাহ নূর জালাল এমনটাই জানিয়েছিলেন।  আমি কুল হারা কলঙ্কিনী...