সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

করোনা ভাইরাস রোধে আমাদের করণীয়

করোনাভাইরাস কতটা ক্ষতিকর? এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলেই কি নির্ঘাত মৃত্যু? এই আতঙ্কে এই মুহূর্তে তোলপাড় হচ্ছে বিশ্ব। চীনের উহান প্রদেশে এই ভাইরাসের খবর প্রথম পাওয়া যায়। আক্রান্তের সংখ্যাও চীনেই সব থেকে বেশি।

এ ছাড়াও বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে এই মরণ ভাইরাস। এই ভাইরাস আসলে সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জার মতোই। সেভাবে আলাদা করে বোঝার উপায় শুরুতেই করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে নেই। সার্স আর মার্স ভাইরাসের থাবায় তোলপাড় হয় বিশ্ব। আক্রান্ত হয়েছিলেন বহু মানুষ।

প্রাণও হারিয়েছিলেন অনেকে। তাদেরই গোত্রের এই ভাইরাস। মিউটেশনের মাধ্যমে এই ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তন হয়েছে। তাতেই তৈরি হয়েছে করোনা ভাইরাস যা এই মুহূর্তে বড়বড় দেশকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। ভারতের দু’ এক জায়গায় কিছু মানুষকে পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও এখনও পর্যন্ত করোনাভাইরাসেই যে তাদের মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত নয়।

তবুও বেশকিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতেই হবে। বলছেন চিকিৎসক অমিতাভ নন্দী।একজনের মৃত্যু হয়েছে তবে সেটা করোনাভাইরাসেই আক্রান্ত হয়েই কিনা এখনও নিশ্চিত নয়।

বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট অমিতাভ নন্দী বলছেন, সেভাবে আলাদা করার উপায় এক্ষেত্রে নেই, তবে হ্যাঁ বেশকিছু সাবধানতা অবলম্বন করা যেতেই পারে। এই ভাইরাসটি পশুর দেহেই প্রথম বাসা বেঁধেছিল তারপর তা এখন মানুষের দেহে প্রবেশ করেছে। তারপর মানুষের দেহে প্রবেশ করে, মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস।

কী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতেই হবে?

সাধারণ সর্দি-কাশি হলেও মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। মুখে নাকে হাত দেওয়া চলবে না। হাঁচি পেলে বা কাশি পেলে টিস্যু, রুমালের ব্যবহার করুন। কিছুই না থাকলে মুখ ঢেকে হাঁচুন এবং তারপর হাত ধুঁয়ে ফেলুন।

এমনটাই বলছেন ডঃ অমিতাভ নন্দী। যেহেতু এটি নতুন চরিত্রের ভাইরাস সেক্ষেত্রে এর কোনো ভ্যাকসিনও এখনও পর্যন্ত বেরোয়নি। এই রোগের কোনো চিকিৎসা নেই। তবে এই ধরনের ভাইরাসের ক্ষেত্রে যে চরিত্র আগে দেখা গেছে, তাতে এই রোগ নিজে নিজেই সেরে যায়।

সাধারণত যেটা দেখা যায় যে, এই ভাইরাস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম যাদের সেই সমস্ত মানুষকে আক্রমণ করে বেশি। তাই সেভাবে যদি দেখা যায় তাহলে ধরে নেওয়া যেতে পারে যে সাধারণ মানুষের চিন্তিত হওয়ার খুব একটা কারণ নেই। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। হাঁচি, সর্দি, কাশি এই ধরনের জিনিস পুষে রাখবেন না। চিকিৎসকের কাছে যান। কী ঘটেছিল, কয়েকদিনের মধ্যে কারও সংস্পর্শে এসেছিলেন কিনা এই সমস্ত বিষয় চিকিৎসকের কাছে খুলে বলুন।

যদি ধরে নেওয়া যায় যে একবার এই রোগে কেউ আক্রান্ত হচ্ছেন তাহলে তাকে একেবারে আলাদা করে রাখতে হবে। তার সমস্ত কিছুই আলাদা রাখতে হবে, যাতে আর অন্য কারোর তার থেকে রোগ না ছড়ায়। চীনে যারা আক্রান্ত হয়েছেন এখনও পর্যন্ত যতটুকু খবর পাওয়া যাচ্ছে তাদের কিন্তু কারোরই পুরনো রোগের কোনো ইতিহাস নেই বা বলা যেতে পারে যে তারা সুস্থ-সবল মানুষই ছিলেন। সেক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত এই ভাইরাসের চরিত্র বা এই ভাইরাসটি কাদের ওপর বেশি আক্রমণ করছে এটি বলা কঠিন।

আমরা কতটা প্রস্তুত করোনা মোকাবেলাায়। করোনাভাইরাস মোকাবিলা করার জন্য কতটা তৈরি? এ বিষয়ে ডঃ অমিতাভ নন্দী বলেছেন, এই ধরনের ভাইরাসের ক্ষেত্রে একেবারে আইসোলেশন ওয়ার্ড দরকার হয় এবং যিনি এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন সেই রোগীর জন্য বিশেষ বিছানা, সেই ঘরের বাতাস যাতে বাইরে না যায় বা পরিশুদ্ধ হয়ে যায় তার ব্যবস্থা রাখা, এয়ার পিউরিফায়ার রাখা, সঙ্গে এই ধরনের রোগীর সমস্ত কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার বিশেষ যন্ত্রপাতি বা শুধুমাত্র তার জন্যই যন্ত্রপাতি, জিনিসপত্র বরাদ্দ করার মতো পরিকাঠামো এ রাজ্যে এখনও নেই। এই রোগে আক্রান্ত হলেই যে মানুষ মারা যাচ্ছেন বিষয়টা একেবারেই তা নয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা অবলম্বন করেই এই রোগকে দূরে রাখা যায়।

লিখেছেন - ড. অমিতাভ নন্দী, চিকিৎসক (সূত্র ঢাকা টাইমস)


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বাউল সাধক চান মিয়া এবং আমার কিছু উপলব্ধি

"রজনী হইসনা অবসান  আজ নিশিতে আসতে পারেবন্ধু কালাচাঁন।। কত নিশি পোহাইলোমনের আশা মনে রইলো রে কেন বন্ধু আসিলোনা জুড়ায়না পরান। আজ নিশিতে আসতে পারে বন্ধু কালাচাঁন।। বাসর সাজাই আসার আশেআসবে বন্ধু নিশি শেষে দারূন পিরিতের বিষে ধরিল উজান। আজ নিশিতে আসতে পারে বন্ধু কালাচাঁন।। মেঘে ঢাকা আঁধার রাতে কেমনে থাকি একা ঘরে সাধক চাঁনমিয়া কয় কানতে কানতে হইলাম পেরেশান আজ নিশিতে আসতে বন্দু কালাচাঁন।"    গভীর নিশিতে ধ্যান মগ্ন হয়ে কালাচাঁনের অপেক্ষা করছেন সাধক।  সাধক চান মিয়ার শিষ্য বাউল সিরাজউদ্দিনের মতে এটি একটি রাই বিচ্ছেদ। কৃষ্ণের অপেক্ষায় রাধা নিশি বা রাতকে অনুরোধ করছেন 'রাত' যেন না পোহায়  কারণ তার কালা চান যে কোন সময় আসতে পারে। শব্দগুচ্ছ গুলো থেকে সহজেই উপলব্ধি হয় সাধক নিজ দেহকে রাধা আর আত্মাকে কৃষ্ণের সাথে তুলনা করেছেন। দেহ আত্মার মিলন ঘটানোই ছিল সাধকের সাধনা।        বাউল সাধক চান মিয়া উপরোক্ত গানটি রচনা করেছেন। নেত্রকোনা জেলার খাটপুরা গ্রামে ১৩২৫ বঙ্গাব্দে সাধক চান মিয়ার জন্ম। পুরো নাম চান্দেজ্জামান আকন্দ হলেও বা...

বাউল, বাউলতত্ব এবং কিছু কথা

একজন ভদ্র বন্ধু বরের সাথে বাউল সম্প্রদায় নিয়ে বেশ তর্ক হলো রাতে। তর্কের সূত্রপাত ছিল বাউলরা ভাববাদী না বস্তুবাদী। ভাবলাম "বাউলতত্ত্ব"র আলোকে বাউলরা ভাববাদী নাকি বস্তুবাদী তা নিয়ে যৌক্তিক আলোচনা আবশ্যম্ভাবী। কয়েকটি ধারাবাহিক পর্ব লিখে নিজের মনোভাব বোঝানোর চেষ্টা করব।  শুরুতেই শক্তিনাথ ঝাঁ এর বস্তুবাদী বাউল বই থেকে কিছু কথা লিখতে চাই; বাস্তব জগত ও জীবনকে এরা কোন আনুমানিক যুক্তি বা আলৌকিক যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করতে নারাজ। জৈব রাসায়নিক ব্যাখায় এরা নারীর রজঃ এবং পুরুষের বিজে জীবন ও জগত সৃষ্টিকে ব্যাখা করে এবং চার ভূতকে প্রাকৃতিক সৃষ্টি মনে করে। এভাবে মানুষে, প্রকৃতিতে তৈরি করে প্রাণ, প্রাণী। অনুমান ভিত্তিক স্বর্গ, নরক, পরলোক, পুনর্জন্মাদি প্রত্যক্ষ প্রমাণাভাবে বাউল আগ্রাহ্য করে। মানুষ ব্যাতিরিক্ত ঈশ্বরও এরা মানে না। সৃষ্টির নিয়মকে জেনে যিনি নিজেকে পরিচালনা করতে শিখেছেন- তিনিই সাঁই। সুস্থ নিরোগ দীর্ঘজীবন এবং আনন্দকে অনুভব করার বাউল সাধনা এক আনন্দমার্গ।।  বাউলরা ভাববাদী না বস্তুবাদী এর অনেক সূক্ষ বিশ্লেষণ শক্তিনাথের বস্তুবাদী বাউল বইটির মধ্যে আলকপাত করা হয়েছে। সাধারণ সমাজে এ ধা...

আমি কুল হারা কলঙ্কিনী

হাওরের বুক বেয়ে চলছে একটি নৌকা। সেই নৌকায় একজন গুরু তার শিষ্যদের নিয়ে গান করছেন, বলছেন গানের ইতিবৃত্ত। আমি বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের কথা বলছি। ভাটির পুরুষ প্রামাণ্য চিত্রে বাউল শাহ আব্দুল করিম বলেছিলেন এভাবেই- 'আমার কাছে কেউ আইয়ো না, আমার পরামর্শ কেউ লিও না, আমার নীতি বিধান তোমরা মানিও না, আমি আমার কলঙ্ক ডালা মাতাত লইলাইছি, তোমরা কলংকি অইয়ো না, এইটা কইছি আরকি। ঔত মানুষে ভালোবাসেনা, কয় গান গায় এবেটায় মরলে জানাজা মরতাম নায়, ইতা নায় হিতা নায় মুল্লা গুষ্টিয়ে কয় আরকি '। শাহ আব্দুল করিম তাঁর লিখা এবং সুর করা ' আমি কুল হারা কলঙ্কিনী' গানটির ব্যাখ্যা করছিলেন এভাবেই।  বাউল করিমের শিষ্য আব্দুল ওয়াহেদ থেকে জানা যায়, একবার ঈদ জামাত শেষ হবার পর শাহ আব্দুল করিমকে গ্রামের মোল্লারা আক্রমণ করে বসলো। বলা হলো তাকে গান ছেড়ে দিতে হবে। গান বাজনা না ছাড়লে তাকে এক ঘরে করে দেয়া হবে। পরবর্তীতে করিম গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র অর্থাৎ কালনী নদীর তীরে চলে গিয়েছিলেন যেখানে করিমের বাড়ি এবং সমাধি অবস্থিত। ৭১ টিভিতে বাউল শাহ আব্দুল করিমের ছেলে বাউল শাহ নূর জালাল এমনটাই জানিয়েছিলেন।  আমি কুল হারা কলঙ্কিনী...